উৎপাদন কেন্দ্র থেকে ভোক্তা পর্যন্ত ইলেকট্রিক পাওয়ার সাপ্লাই সিস্টেমের নকশা দেখুন

0
335

ইলেকট্রিক পাওয়ার (কনজিউমার লেভেল প্রেরণ) বিক্রয়ের জন্য পাওয়ার স্টেশন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পাওয়ার প্রেরণ করার পদ্ধতিকে ইলেকট্রিক সাপ্লাই সিস্টেম বলে।

ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম পড়ুন 

ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন প্রশ্ন উত্তর পর্ব-১ (জবের লিখিত ও ভাইবা প্রস্তুতি) পড়ুন

ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন প্রশ্ন-উত্তর পর্ব-২ পড়ুন

ট্রান্সমিশন ভোল্টেজ (66/132/230/400)KV কেন করা হয় ও কিছু প্রশ্ন পড়ুন

ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন লাইনে ব্যবহৃত উপাদান সমূহ সাথে পরিচিতি ও তাদের কাজ পড়ুন

ইলেকট্রিক পাওয়ার সাপ্লাই সিস্টেম প্রধান তিনটি উপাদান নিয়ে গঠিত:ইলেকট্রিক পাওয়ার

  1. পাওয়ার ষ্টেশন (Power Station)
  2. ট্রান্সমিশন লাইন (Transmission Line)
  3. ডিস্ট্রিবিউশন লাইন (Distribution Line)

পাওয়ার স্টেশনে বা পাওয়ার প্ল্যান্টে ইলেকট্রিক পাওয়ার উৎপন্ন করা হয়ে থাকে। এই পাওয়ার ষ্টেশন থেকে ভোক্তা অনেক দূরে অবস্থান করে থাকে।

পরিবাহী তারের সাহায্যে অনেক দূরবর্তী স্থানে এই পাওয়ারকে প্রেরণ বা ট্রান্সমিট করা হয় যাকে ট্রান্সমিশন লাইন বলে।

পরিশেষে ভোক্তাদের ডিস্ট্রিবিউশন লাইনের সাহায্যে পাওয়ার প্রেরণ করা হয়। আমরা এই সম্বন্ধে বিস্তারিত জানবো নিচে।

ট্রান্সমিশন লাইনকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

  • প্রাইমারী ট্রান্সমিশন লাইন (Primary Transmission Line)
  • সেকেন্ডারি ট্রান্সমিশন লাইন (Secondary Transmission Line)

ডিস্ট্রিবিউশন লাইনকেও আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

  • প্রাইমারী ট্রান্সমিশন লাইন (Primary Transmission Line)
  • সেকেন্ডারি ডিস্ট্রিবিউশন (Secondary Transmission Line)

ইলেকট্রিক পাওয়ার সিস্টেম নকশা নিচে দেওয়া হলোঃ

পাওয়ার সাপ্লাই সিস্টেমের এখানে যে নকশা দেখানো হয়েছে তা সব ধরনের নকশার সাথে মিল নাও থাকতে পারে আবার কোন কোন সাপ্লাই সিস্টেম হয়তো উপরের চিত্রের মত সবগুলো উপাদান নাও থাকতে পারে।

জেনারেটিং ষ্টেশন(Generating Station):

নিচের চিত্রে GS দেওয়া আছে যার পূর্ণ নাম Generating station বা উৎপাদন কেন্দ্র।

ইলেকট্রিক পাওয়ার

এই ষ্টেশনে উৎপাদিত ভোল্টেজের পরিমাণ ১১ কেভি। কখনো কখনো উৎপাদিত পাওয়ার  ৬.৬, ৩.৩ কেভিও হয়ে থাকে।

এই ১১ কেভি ভোল্টেজকে স্টেপ আপ ট্রান্সফরমারের সাহায্যে ১৩২ কেভিতে পরিণত করা হয় কারণ হাই ভোল্টেজে ইলেকট্রিক পাওয়ার কে অনেক দূরবর্তী স্থানে পাঠানোর অনেক সুবিধা রয়েছে।

সুবিধাগুলো বিস্তারিত এখানে পড়ুনঃ

http://blog.voltagelab.com/ট্রান্সমিশন-ভোল্টেজ/

প্রাইমারী ট্রান্সমিশন:

জেনারেটিং ষ্টেশন এর ১১ কেভি ভোল্টেজকে স্টেপ আপ ট্রান্সফরমারারের সাহায্যে ১৩২ কেভি ভোল্টেজে রুপান্তিরত করা হয়।

ইলেকট্রিক পাওয়ার

এই হাই ভোল্টেজকে ৩ তার ওভারহেড সিস্টেমে অনেক দূর পর্যন্ত ট্রান্সমিট করা হয়ে থাকে। এই ১৩২ কেভি ট্রান্সমিশন ভোল্টেজকে আবার স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমারের সাহায্যে ৩৩ কেভিতে রূপান্তরিত করা হয় এবং তা ট্রান্সমিট করে রিসিভিং ষ্টেশন পর্যন্ত প্রেরণ করা হয়। এটাই মূলত প্রাইমারী ট্রান্সমিশন এর কাজ।

সেকেন্ডারি ট্রান্সমিশন:

প্রাইমারী ট্রান্সমিশন সিস্টেমে ১৩২ কেভি বহনকারী ট্রান্সমিশন লাইন স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমারের সাহায্যে সোজা রিসিভিং ষ্টেশন এ গিয়ে শেষ হয়। এটাও সাধারণত জেনারেটিং ষ্টেশন এর মত আরেকটা ষ্টেশন তবে এখানে জেনারেটরের পরিবর্তে স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার থাকে।

ইলেকট্রিক পাওয়ার

 এই ট্রান্সফরমার টা সাধারণত ৩৩ কেভি ভোল্টেজকে ১১ কেভি ভোল্টেজে পরিণত করতে পারে। এরপরে এটা ৩ ফেজ ৩ তারের ওভারহেড সিস্টেমে আবার ট্রান্সমিট করা হয় পরিবাহীর সাহায্যে।

এরপরে বিভিন্ন শহরের সাব ষ্টেশনে গিয়ে শেষ হয়। এটাই মূলত সেকেন্ডারি ট্রান্সমিশন এর কাজ।

প্রাইমারী ডিস্ট্রিবিউশন:

৩৩ কেভি ভোল্টেজের সেকেন্ডারি ট্রান্সমিশন লাইন শেষ হয় সাব ষ্টেশনে গিয়ে। সেখানে একটি স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার থাকে।  ইলেকট্রিক পাওয়ার

এই স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার ৩৩ কেভি ভোল্টেজকে ১১কেভি তে এ রূপান্তর করে। কখনো কখনো এই ১১ কেভি ভোল্টেজকে বিগ কনজিউমার (ইন্ডাস্ট্রি, ফ্যাক্টরি, মিল) প্রেরণ করা হয়। এসব বিগ কনজিউমার চাহিদা ৫০ কিলো-ওয়াট এর বেশি থাকে বলে তারা সরাসরি প্রাইমারী ডিস্ট্রিবিউশন থেকে বিদ্যুতের লাইন নিয়ে থাকে।

সেকেন্ডারি ডিস্ট্রিবিউশন:

প্রাইমারী ডিস্ট্রিবিউশন লাইন ১১ কেভি ভোল্টেজ ডিস্ট্রিবিউশন(DS) সাব ষ্টেশনে যায়। এই ডিস্ট্রিবিউশন সাব ষ্টেশন কনজিউমার বা আমাদের বাসা-বাড়ির খুব কাছাকাছি থাকে।

ইলেকট্রিক পাওয়ার

ডিস্ট্রিবিউশন সাব-ষ্টেশন একটা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার থাকে যার মাধ্যমে ১১ কেভি ভোল্টেজকে ৪০০ ভোল্ট এ রূপান্তরিত হয়। সর্বশেষে এই ৪০০ ভোল্ট ৩ ফেজ ৪ ওয়্যার সিস্টেমে বাসা-বাড়িতে ইলেকট্রিক পাওয়ার সাপ্লাই করা হয়।

এক্ষেত্রে দুটো ফেজ এর মধ্যে ভোল্টেজ ডিফারেন্স থাকে ৪০০ ভোল্ট আর যেকোন একটা ফেজ এবং একটা নিউট্রাল এর মধ্যে ভোল্টেজ ডিফারেন্স থাকে ২৩০ ভোল্ট।

ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম পড়ুন

ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন প্রশ্ন উত্তর পর্ব-১ (জবের লিখিত ও ভাইবা প্রস্তুতি) পড়ুন

ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন প্রশ্ন-উত্তর পর্ব-২ পড়ুন

ট্রান্সমিশন ভোল্টেজ (66/132/230/400)KV কেন করা হয় ও কিছু প্রশ্ন পড়ুন

ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন লাইনে ব্যবহৃত উপাদান সমূহ সাথে পরিচিতি ও তাদের কাজ পড়ুন

LEAVE A REPLY