আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স (AI) কি? মানবজীবনে এর প্রভাব কি?

0
70

আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন যন্ত্র তথ্য প্রযুক্তি বিজ্ঞানের এক অনাবদ্য সৃষ্টি। এই সহায়ক শুধু গ্রাহকের নির্দেশ মেনে কাজই করে না, আগে থেকে বলে রাখা এসাইনমেন্ট যথাসময়ে সঠিকভাবে করে রাখে। আজকাল সকালের চায়ের কাপে চুমুক দেয়ার সাথে সাথেই আমাদের শুরু হয়ে যায় বিবিধ কার্যক্রম। আর এই বিবিধ কার্যক্রমে আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স খুব ফলপ্রসূ। এই মস্তিষ্ক মানবমস্তিষ্কের ন্যায় কোন নিউরন বা স্নায়ু দিয়ে গঠিত না। এটি ন্যানোটেকনোলজির উপহার মাইক্রোচিপ দিয়ে সুগঠিতভাবে ডিজাইন করা থাকে।

আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি?

কম্পিউটার কিংবা মোবাইল এগুলো মূলত বোকা বাক্স ছাড়া কিছুই না। তাই বোকাকে চালাক বানানোর প্রক্রিয়াই হল আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজ্যান্স। এবার একটু জটিল ভাষা ব্যবহার করা যাক। কম্পিউটার সিস্টেমকে কোডিং করে তার মধ্যে বিভিন্ন নির্দেশাবলি ইনপুটের মাধ্যমে তার মধ্যে কৃত্রিম কার্যক্ষমতা তৈরি করাকেই আমরা আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজ্যান্স বলতে পারি।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স

বাস্তব উদাহরণের সাহায্যে ব্যাখ্যা

ফেসবুক একটি অতি পরিচিত নাম। এমন লোক পাওয়া কঠিন যার ফেসবুক একাউন্ট নেই। তিনবেলা উপোস থাকলেও ফেসবুক ছাড়া থাকা মুশকিল। মনে করেন, আপনার কোন বিদেশি বন্ধু তার দেশের ভাষায় ফেসবুকে কোন পোস্ট করল। এখন আপনার খুব ইচ্ছে হল তার অভিব্যক্তিটা জানার জন্য। তাই আপনি এই ভাষা বাংলায় ট্রান্সলেশন করে নিলেন। লক্ষ্য করেন ব্যাপারটি। আপনি কমান্ড দেয়ার সাথে সাথেই সে ট্রান্সলেশন করে ফেলল। কিভাবে সম্ভব হল ব্যাপারটি?

আবার আপনি তার লিখাটি পড়ে যখন আপনার ভাল লাগল আপনি এতে একটি লাইক দিলেন। আর আপনার লাইক দেয়ার নোটিফিকেশন নিমিষেই চলে গেল আপনার বিদেশে থাকা বন্ধুর কাছে। দেখুন নিমিষেই ঘটছে ব্যাপারটি। এর নেপথ্যে কোন ব্ল্যাক ম্যাজিক কাজ করেনি। কাজ করেছে প্রোগ্রামিং ম্যাজিক। এটিই মূলত এ আই বা আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজ্যান্স।

আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স

আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স উদ্ভাবক কে?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পথচলা শুরু ১৯৪০ সালে। মার্কিন কম্পিউটার ও কগনিটিভ বিজ্ঞানী জন ম্যাকার্থি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শব্দটি ব্যবহার করেন। এমনকী, এআই প্রযুক্তির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনিই।

প্রকারভেদ

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে মোটামুটি তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। যথাঃ

উইক এআই (Narrow AI)

এই ইন্টেলিজেন্স শুধুমাত্র স্পেসিফিক বিষয়ের উপর কাজ করতে পারে। বর্তমানে আমরা এই ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করছি।

স্ট্রং এআই (Artificial General Intelligence)

মেশিন বা কম্পিউটার যখন মানুষের মতো কাজ করতে পারবে তখন তাকে বলা হবে স্ট্রং এ আই।

সিঙ্গুলারিটি (Super Intelligence)

এটা হলো এমন একটা ইন্টেলিজেন্স যা কিনা সবচেয়ে প্রতিভাধর মানুষের ক্ষমতাকেও অতিক্রম করবে।

রোবট সোফিয়া

মনে আছে? কয়েক বছর আগে রোবট সোফিয়াকে ১২০০ কোটি টাকা খরচ করে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। এই রোবট সোফিয়া আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর একটি প্রকৃষ্ট উপমা।

রোবট সোফিয়া
রোবট সোফিয়া

আরো কিছু আর্টিকেল

বিট কয়েন কি? বিট কয়েন কিভাবে কাজ করে?

এনক্রিপশন ও ডিক্রিপশন নিয়ে মজার আলোচনা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here