পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ট ইঞ্জিনিয়ার “নিকোলা টেসলা” (মহামানব)

Nikola Tesla

0

পৃথিবীর ইতিহাসে সব থেকে রহস্যময় ও বিস্ময়কর বিজ্ঞানী ছিলেন নিকোলা টেসলা যিনি সত্যি বলতে পুরো আধুনিক পৃথিবীরটা আমাদের দিয়ে গেছেন।

আপনি হয়তো অনেক কিছু জানেন না তাঁর আবিষ্কার সম্পর্কে। যার ছিল ৩০০ টির বেশি আবিষ্কারের প্যাটেন্ট এবং তাঁর আবিষ্কার গুলো ছিল সময়কে ছাপিয়ে গিয়ে,  সে সময় থেকেও অনেক অনেক আধুনিক যা বর্তমান যুগেও আধুনিক হিসাবে বিবেচিত হয়।

তার এমনও আবিষ্কার ছিল পৃথিবী ধ্বংস করার ক্ষমতা ছিল কিন্তু মানব কল্যাণের জন্য তিনি সেই আবিষ্কার গুলোকে নষ্ট করে দেন।

জানিনা মিডিয়া কোন তাকে নিয়ে খুব একটা লেখে না। কিন্তু তার সম্পর্কে জানার পর তাকে সমস্ত বিজ্ঞানীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মনে হয়েছে। কারন নিকোলা টেসলা ই একমাত্র বিজ্ঞানী যিনি যা চিন্তা করতেন তাই তৈরি করে দেখাতে পারতেন, এই জন্য অন্যান্য বিজ্ঞানীরা তাকে ইতিহাসের সবথেকে পাগলাটে বিজ্ঞানী বলে আখ্যা দিয়েছিলো

জন্ম, শৈশব এবং শিক্ষা:

Nikola Tesla জন্মই ছিল রহস্যময়। প্রচণ্ড প্রতিকূল আবহাওয়া ও বজ্রপাতের রাতে ১৮৫৬ সালে ৯ জুলাই এবং ১০ জুলাইয়ের মাঝে রহস্যময়ভাবে ঠিক রাত ১২ঃ০০ টাতে তার জন্ম হয় ক্রয়োশিয়াতে। তাই তার জন্ম তারিখ ২ টি বলা হয়ে থাকে।

তবে Wikipedia তে কনফিউশন এড়াতে ৯ ও ১০ জুলাই ই এর পরিবর্তে ১০ জুলাই লেখা হয়েছে। খারাপ আর ভয়ঙ্কর আবহাওয়াতে জন্ম বলে মানুষ তাকে “Child of Darkness” বলেছিল কিন্তু তার মা বলেছিলেন সে একদিন পৃথিবীকে আলোকিত করবে , তাই তাকে তার মা “Child of Light” বলতেন। বাস্তবেও কিন্তু তাই হয়েছিল। তার আবিষ্কৃত AC বিদ্যুৎ পুরা পৃথিবীকেই আলোকিত করেছে , এবং আমাদের আধুনিক একটা পৃথিবী দিয়েছে।

Nikola Tesla এর পিতা তাকে ধর্ম যাজক বানাতে চেয়েছিলেন এবং পাঠিয়েও দিয়েছিলেন ধর্মযাজক দের কাছে। কিছুদিন পর কলেরায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু পথ থেকে বেঁচে আসেন  এবং পারিবারিক ভাবে তাকে ইঞ্জিনিয়ার বানানোর পরিকল্পনা করা হয়। স্কুলে / কলেজে সে তার প্রতিভার বিস্ময় দেখাতে শুরু করলেন। বড় বড় ত্রিকোনামিতিক ক্যালকুলাস তিনি খাতা কলম ছাড়াই ব্রেইনে চিন্তা করেই উত্তর বলে দিতেন। সে এতোটাই মেধাবি ছিলেন যে কলেজের শিক্ষকরা তার বিস্ময়কর মেধা দেখে তার বাবাকে চিঠি দিত।

Engineering পড়ার সময়ে এক শিক্ষকের সাথে তার কোন একটা বিষয় নিয়ে দ্বিমত হয়। পরে সে প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টা lab এ কাজ করে প্রমান করেন যে তার ধারনাই সঠিক। এই ঘটনা কলেজে ছড়িয়ে পড়লে তিনি সকলের কাছেই আরও বেশি বিস্ময়কর ছাত্র হয়ে ওঠেন। তখন ও তার বিস্ময়কর আবিস্কার শুরু হয়নি।

1884 সালে Nikola Tesla আমেরিকায় পারি জমান। সাথে ছিল ৪ টি কাপড় আর শুধু পরিচয়পত্র আর সাথে Thomas Edison কে লিখা একজনের একটা চিঠি যেটা নিকোলা টেসলা কে বলা হয়েছিল Thomas Edison কে পৌঁছে দিতে। সেই চিঠিটাতে লিখা ছিল:  আমি পৃথিবীতে দুইজন জ্ঞানী লোকে চিনি, একটা তুমি (Edison) এবং অপরটি তোমার সামনে দাঁড়ানো Nikola Tesla!

AC-DC War (Tesla vs Edison):

Edison তার কোম্পানিতে Nikola Tesla কে নিয়োগ করেন এবং ডিসি জেনারেটর পুনরায় ডিজাইন করার জন্য তাকে $50000 দেবেন বলে ঘোষণা দেন। Nikola Tesla প্রচণ্ড পরিশ্রম করে সফল হন। কিন্তু Edison Nikola Tesla কে কোন টাকাই দেননি এবং বলেন “It’s a Joke”!! এর মাঝেই Nikola Tesla আবিস্কার করেন সব থেকে বিস্ময়কর আবিষ্কার যা সারা পৃথিবীকে বদলে দিয়েছিল। আর সেটি হল AC বিদ্যুৎ বা Alternating Current.

Edison এর DC বিদ্যুৎ দিয়ে মানুষ শুধু আলো পাবার চিন্তা করত। কিন্তু Nikola Tesla এর আবিষ্কৃত AC দিয়ে সব কিছু করা সম্ভব এটা মানুষ বুঝতে পারে। Nikola Tesla এডিসনকে DC এর পরিবর্তে AC ব্যবহার করতে বলেন। এতে এডিসন ক্ষিপ্ত হন  এবং টেসলা তার কোম্পানি থেকে আলাদা হয়ে Tesla Electric Company নামে নতুন একটি Company প্রতিষ্ঠা করেন। এসি বিদ্যুতের খুব শিগ্রই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে । কারন এসি ছিল অত্যন্ত পাওয়ারফুল এবং কম খরচে পাওয়া যেত  এবং শিল্প কারখানার কাজেও একমাত্র ব্যবহার উপযোগী।

এদিকে Edison এর ডিসি বিদ্যুতে বাবসা প্রায় শেষ। এডিসন নিকোলা টেসলা কে থামাতে স্থায়ীও বাসিন্দাদের বাড়ি থেকে কুকুর, বিড়াল চুরি করে রাস্তায় রাস্তায় ক্যাম্প বানিয়ে সেগুলো কে AC বিদ্যুতে শক দিয়ে জন সম্মুখে হত্যা করে মানুষের মনে ভয় সৃষ্টি করতে লাগলেন। একজন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিকেও AC দিয়ে হত্যা করার জন্য প্রশাসনকে বোঝান।

এই ঘটনা গুলো ঘটিয়ে মানুষের মনে ত্রাস সৃষ্টি করে এডিসন নিকোলা টেসলা কোম্পানিকে চরমভাবে আর্থিক বিপর্যয়ে ফেলে এবং একসময় নিকোলা টেসলা এসি বিদ্যুতের প্যাটেন্ট বিক্রি করে দেন। প্যাটেন্ট বিক্রির $60000 দিয়ে তিনি নতুন নতুন আবিস্কারের পেছনে কাজে লাগান।

কিন্তু মানুষ পরবর্তীতে ঠিকই এসি বিদ্যুতের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারে এবং পুরা শহরে AC বিদ্যুতের জন্য একটি কোম্পানি এডিসনের বিদ্যুৎ কোম্পানিকে বরাদ্দ করে। এটি ছিল এডিসনের জন্য চরম লজ্জাজনক। তিনি করবেন না বলে জানিয়ে দেন। সেই জন্য এডিসনের কোম্পানির অন্যান্য শেয়ার হোল্ডাররা এডিসনের কোম্পানি থেকে এডিসনকেই বের করে দেয়।

মানব কল্যাণে Nikola Tesla এর যুগান্তরকারী আবিষ্কার গুলো:

300 এর বেশি আবিস্কারের প্যাটেন্ট ছিল এই মহান বিজ্ঞানী নিকোলা টেসলা। এছাড়াও অনেক আবিস্কারের প্যাটেন্টই গ্রহন করেননি। আর অনেক আবিষ্কারের আইডিয়া চুরি করে অনান্য বিজ্ঞানীরা নিজের বলে চালিয়েছিল। নিকোলা টেসলা একমাত্র বিজ্ঞানী ছিলেন যিনি যা চিন্তা করতে তাই ই তৈরি করে দেখাতেন। আবিষ্কারই ছিল তার নেশা।

1. AC Electricity:

এই সম্পর্কে বিস্তারিত বলা হয়েছে। এসি বিদ্যুৎ আবিষ্কার না হলে আমরা অন্ধকার পৃথিবীতেই থাকতাম। আর পৃথিবীতে এত শিল্প বিপ্লব হত না।

2. Radio:

মারকনির রেডিও আবিস্কারের কয়েক বছর আগেই নিকোলা টেসলা রেডিও আবিষ্কার করেছিলেন এবং রেডিও তরঙ্গও তার গবেষণার কাজেও ব্যবহার করেছিলেন। 1943 সালে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট সত্যটা জানার পরে মারকনির রেডিও প্যাটেন্ট বাতিল ঘোষণা করে নিকলা টেসলাকে রেডিও আবিষ্কারক হিসাবে ঘোষণা করে। কিন্তু একবছর পর প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় মারকনি প্যাটেন্টটি নিজের নামে বহাল রাখতে সক্ষম হয়েছিল।

3. Remote, Robot and Guided Missile System:

নিকোলা টেসলা রিমোটে প্রযুক্তি এর জনক ছিলেন। তিনি একটি খেলনা নৌকাকে দুর নিয়ন্ত্রিত ভাবে চালাতে গিয়ে একসাথে ৩ টি আবিষ্কার করে ফেলেন। ১. পৃথিবীর সর্বপ্রথম রিমোট , ২.পৃথিবীর সর্বপ্রথম রোবট , ৩.পৃথিবীর সর্বপ্রথম গাইডেড মিসাইল সিস্টেম।

4. Wireless Electricity:

নিকোলা টেসলা এমন একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছিলেন , কোন তার ছাড়াই বিদ্যুৎ এক স্থান থেকে অন্যস্থানে পাঠাতে যেত। তিনি তখনকর সময়ে একজন নামকরা বাবসায়ীর থেকে ফান্ড নিয়ে তৈরি করে 187 ফুট উঁচু একটি Tesla Tower যেখান থেকে তার ছাড়াই বিদ্যুৎ পাঠানো যাবে এবং তিনি সম্পূর্ণ ফ্রিতে সারা পৃথিবীকে বিদ্যুৎ দেয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

তিনি পুরা পৃথিবীকেই একটা conductor হিসাবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন এবং সার্থকও হয়েছিলেন। কিন্তু প্রোজেক্টির কাজ শেষ হবার আগেই বিনিয়োগ কারীরা হঠাৎ করেই টাকার জোগান দেয়া বন্ধ করে দেয়। কারন বিদ্যুৎ কোম্পানি গুলো ভয়ে ছিল যদি সারা পৃথিবীতে ফ্রিতে বিদ্যুৎ দেয়া হত অনেক কোম্পানিই দেউলিয়া হয়ে যেত। আবিষ্কারটি হারিয়ে গেছে। না হলে আজ আমরা তার ছাড়াই ফ্রিতে বিদ্যুৎ পেতাম।

5. Induction Motor:

শিল্প ক্ষেত্রে Induction Motor এর ভুমিকা কেমন সেটা আর নতুন করে বলার কিছু নাই।

6. Tesla Coil:

বর্তমান যুগের Wifi technology মূলত টেসলার এসব আবিষ্কার থেকেই বিবর্তিত হয়ে এসেছে। তার আবিষ্কার সম্পর্কে লিখে শেষ করতে পারব না। আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার যেমন :

7.Violet Ray, 8.TeleForce, 9.Neon Lamp, 10. Wireless Telegraphy, 11. Three phase Electric power, 12.Tesla Turbine, 13.Tesla valve, 14.Vacume Variable Capacitor, 15.shadowgraph, 16. Free Energy ***, 17. Tesla Experimental, 18. Tesla’s Columbus, 19. Resonant inductive coupling, 20 .Polyphase system, 21. Rotating magnetic field, 22. Radio control, 23. Plasma globe, 24. 30Violet rayp, 25. Carbon button lamp, 26. Telegeodynamics, 27.Teleoperation, 28. Torpedo, 29. Vacuum variable capacitor, 30. VTOL

আরও অনেক অনেক আবিষ্কার …… যা এই আর্টিকেলটিতে বলে শেষ করা যাবে না। কিছু জিনিসের আবিষ্কার মূলত Nikola Tesla ই করেছিলেন। কিন্তু আবিস্কারক হিসাবে তার ক্রেডিট নাই এবং কিছু আবিষ্কার ন্যাক্কারজনক ভাবে ভাবে কিছু বিজ্ঞানী চুরি করে নিজের নামে করেছিলেন।

1.Radio, 2. X-ray, 3.Hidro Electric Power, 4.Rader System ইতাদি ইতাদি !!

**এডিসন বৈদ্যুতিক বাল্ব আবিস্কারের অনেক আগেই নাকি নিকোলা টেসলা ল্যাবে বাল্ব জালিয়ে কাজ করতেন। **

Nikola Tesla এর কয়টি অতি বিস্ময়কর এবং ভয়ঙ্কার আবিষ্কার :

Nikola Tesla এর কিছু আবিষ্কার ছিল যে গুলো পৃথিবী ধংসের ক্ষমতা রাখতে পারতো। কিন্তু মানব কল্যাণের স্বার্থে তিনি নিজের হাতেই তৈরি করেই তা নষ্ট করেছিলেন। আর কয়টি আবিষ্কার তিনি অর্থাভাবে করতে পারেন নি।

1. Earthquake Machine:

1893 সালে নিকোলা টেসলা এমন একটি মেশিন তৈরি করেন যা দিয়ে বড় মাত্রার ভুমিকম্প তৈরি করে ফেলেছিলেন। এটি মূলত ছিল একটি Oscillator যার নাম দিয়েছিলেন “Tesla Oscillator” এবং তিনি অনুভব করেছিলেন তার যন্ত্রটিকে যদি খুব বড় পরিসরে তৈরি করা হয় পুরা পৃথিবীতে ভূমিকম্প সৃষ্টি করা যেতে পারে। মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে তিনি নিজের হাতে হাতুরি দিয়ে ভেঙ্গে ফেলেছিলেন  এবং আবিষ্কারটিও হারিয়ে যায়।

2. Artificial Tidal Wave:

সমুদ্রে বিশাল কৃতিম ঢেউ তৈরির প্রযুক্তি আবিষ্কার করে ফেলেছিলেন যা সুনামি তৈরি করতে সক্ষম ছিল এবং যা দিয়ে শত্রু পক্ষের জাহাজকে সেই ঢেউতে ডুবিয়ে দিতে পারতো।

3. Thought Camera:

নিকোলা টেসলা সেই সময়েই এমন একটি ক্যামেরা তৈরির কথা বলেছিলেন যা মানুষের চিন্তা শক্তি থেকে ডাটাতে কনভার্ট করে সেই গুলোকে দেখা যাবে একটি স্ক্রিনে, এমন একটি প্রজেক্ট। কিন্তু তিনি আর্থিক কারনে প্রজেক্ট করতে পারেননি। সম্ভব হলে মানুষের কোন কিছুই আর গোপন থাকতো না।

4. Electric-Powered Supersonic Airship:

তিনি এমন একটি Airship এর কথা বলেন যার গতি হবে এতই বেশি মাত্র ৩ ঘণ্টায় New York City এ যেতে London পারবে  কিন্তু এই আবিষ্কারটির সমস্ত মডেল , ডকুমেন্ট মৃত্যুর পরে হারিয়ে যায়।

5. Philadelphia Experiment / Project Rainbow / teleportation:

এটি ছিল World War 2 এর সময়ের একটি প্রোজেক্ট। আমেরিকার নৌবাহিনী জাহাজ অদৃশ্য করে শত্রু বাহিনীর চোখ ফাকি দিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই প্রোজেক্ট এর দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো নিকোলা টেসলাকে। সেই প্রোজেক্ট এ নিকোলা টেসলার অধীনে আলবার্ট আইন-স্টাইনকেও টিম মেম্বার করা। নিকোলা টেসলা ছোট একটি Boat এর ক্ষেত্রে সার্থক হয়েছিলেন। নিকোলা পুরোপুরি অদৃশ্য করে ফেলেন সেটিকে। কিন্তু এই পরীক্ষাটি করে সফল হওয়ার পর কিছু ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর নিকোলা টেসলা প্রোজেক্ট থেকে অব্যাহতি নেন এনং তিনি নিষেধ করেছিলেন আইনস্টাইন সহ বাকি যে মেম্বরদেরকে যাতে এই বড় জাহাজ এর ক্ষেত্রে এই পরীক্ষাটি না করা হয়। কিন্তু তার পরেও পরীক্ষাটি করা হয়েছিলো জাহাজে কয়েকজন স্ক্রুসহ। পরে জাহাজটি অদৃশ্য হয়েছিল ঠিকই কিন্তু জাহাজে অবস্থিত স্ক্রুদের বিগলিত লাশ, কেউ কেউ মানুষিক ভারসাম্যহীন , এবং কাউকে জাহাজের দেয়ালে অর্ধেক শরীর ঢুকে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়। নিকোলা টেসলা কিন্তু আগে থেকেই এর ভয়াবহতা কল্পনা করেছিলেন।

6. Anti Gravity Flying Matching:

১৯১১ সালে New York এর একটি মাগাজিনকে বলেন নিকোলা টেসলা আরও একটি Flying Matching নিয়ে কাজ করছিলেন যেটি দেখতে (UFO) এর মত হবে এবং যেকোন দিকে যেকোন গতিতে ছুটতে পারবে। এটি আকাশে ওড়ার সময় গ্রাভিটি শুন্য হয়ে পড়বে এবং বাতাসে স্থির অবস্থায় রাখা যাবে। কিন্তু এই মেশিনটিতে না থাকবে কোন পাখা না থাকবে কোন উইংস।

7. Time Machine:

নিকোলা টেসলা একমাত্র বিজ্ঞানী যিনি Time Machine নিয়ে কাজ করেছিলেন সবার প্রথম। অনেকেই মনে করেন তিনি টাইম মেশিন তৈরি করে ফেলেছিলেন।

8. Death Ray/ Death Beam:

Nikola Tesla এর যে কয়টি ভয়াবহ আবিষ্কারের কথা বলে ছিলেন তার মধ্যে একটি ছিল Death Ray . এটি এমন একটি যন্ত্র যা ২৫০ মাইল দূর থেকে ১০ হাজার যুদ্ধ বিমানকে এক সাথে ধ্বংস করে দেয়ার ক্ষমতা রাখতে পারতো এবং যে কোন যুদ্ধকে শেষ করে দিতে পারতো। অনেকে বলেন তিনি এই যন্ত্রটি তৈরিও করে ফেলেছিলেন কিন্তু এটি দিয়ে মানুষ পৃথিবী ধ্বংস করে দেবে চিন্তা করে এই যন্ত্র টিকেও তিনি নষ্ট করে ফেলেন। তার ল্যাবে একাধিকবার আগুন লেগে অনেক আবিষ্কারের ডকুমেন্টই পুরে গেছিলো ।

এরকম বিস্ময়কর আবিষ্কারের জন্য অনেক বিজ্ঞানীই মনে করতেন Nikola Tesla এর সাথে এলিয়েনদের যোগাযোগ রয়েছে এবং তাঁদের সাথে কাজও করেন। সত্যি বলতে তার সম্পর্কে জানার পর আমার নিজের কাছেও তাকে এলিয়েন মনে হয়েছিলো। নিকোলা টেসলা পৃথিবী ধ্বংসের যন্ত্র আবিষ্কারের কথা শুনে আমেরিকা তার সব নথী জব্দ করেছিল। কিন্তু নিকোলা কাজ করেছিলেন মানুষের কল্যাণে ।7 জানুয়ারি 1943 সালে পৃথিবীর এই মহান বিজ্ঞানী করোনারি থ্রম্বসিস এ মারা যান। তবে ধারনা করা হয় তিনি অবসেসিভ কম্পলসিভ ডিসঅর্ডার নামে পৃথিবীর এক বিরল রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এটা একটা মানুষিক রোগ। যে রোগে আক্রান্ত হলে মনে হয় “সে নিজে যা করছে সেটা সঠিক ভাবে করতে পারছে না”

“তার জন্মের মতই মৃত্যুটাও অদ্ভুত ছিল”। মারা যাবার দিন তার ঘরের দরজায় লিখা ছিল “Don’t Disturb Me”

নিকোলা টেসলা মৃত্যু বরন করেন অনেকটা মানষিক কষ্ট নিয়েই। তিনি পৃথিবীতে আরও কিছু দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার আবিষ্কারের পেছনে পরবর্তিতে আর কেউ বিনিয়োগ করেনি কারন তার আইডিয়া গুলো তখনকর সময়ে এতটাই আধুনিক ছিল, যে বিনিয়োগ কারীরা বিশ্বাস করতে পারতো না। তাই তিনি কষ্ট নিয়েই বলেছিলেন “এই পৃথিবীতে মানুষ আমাকে বিশ্বাস করেনা।” তার মৃত্যুর পর সমস্ত আবিষ্কারের ডকুমেন্ট রহস্যজনক ভাবে হারিয়ে যায়।

অনেকেই মনে করেন তার আবিষ্কারের ডকুমেন্ট হারিয়ে যায়নি। আমেরিকা এখনও নতুন নতুন আবিষ্কার করেই চলছে নিকোলা টেসলা ওই সব ডকুমেন্টের ওপর ভিত্তি করে। ধারনা করা হয় এরিয়া-51 এ তার রেখে যাওয়া ডকুমেন্ট এর ওপর এখন ও গবেষণা করা হয়।

*USA যেটাকে এলিয়েন স্পেসশিপ (UFO) বলে বিশ্ববাসীদের কাছে বলে আসছে সেটা নাকি আসলে আমেরিকার তৈরি নিকোলা টেসলা দেয়া সেই স্পেসশিপটির মডেল। *

*আবার যে মেশিনটি দিয়ে হাইতি দ্বীপে যে বিশাল কৃতিম ভূমিকম্প তৈরি করা হয়েছিলো সেটাও নাকি নিকোলা টেসলা আবিষ্কৃত ভূমিকম্প মেশিনের মডেল থেকে তৈরি করা হয়েছিলো*

* ১৯০৮ সালে নাকি প্রাথমিক ভাবে Death Ray এর পরীক্ষা কালে Tunguska নদীর পাশে (Siberian Russia.) ৮০ বর্গ মাইল বনাঞ্চল ধ্বংস করা হয়েছিলো যা যার ধ্বংস ক্ষমতা পারমাণবিক বোমার থেকে ভয়াবহ ছিল।

তবে নিকোলা টেসলা মানুষের কল্যাণে জন্য এই সব ধ্বংসাত্তক প্রযুক্তি নিজের হাতেই নষ্ট করে ফেলেছিলেন। পরবর্তীতে হয়তো USA তার লিখিত ডকুমেন্ট থেকে আবার তৈরি করেছিল। তবে নিশ্চিত ভাবে কেউ বলতে পারে নি। মিডিয়া যেসব বিজ্ঞানীদেরকে দু একটি ধ্বংসাত্মক আবিষ্কারের জন্য এবং একটি নোবেল পুরুস্কারের জন্য সারা বিশ্বের কাছে সেরা বিজ্ঞানী হিসাবে তুলে ধরেছে এক সময় তারাও নিকোলা টেসলা কে গুরু হিসাবে সম্মান করত।

অন্যান্য বিজ্ঞানীদের সাথে নিকোলা টেসলার তুলনা চলে না শুধু এই টুকুই বলা যায় তারা শুধু থিওরি আকারে তাঁদের আবিষ্কার গুলোকে প্রকাশ করতেন সেখানে নিকোলা টেসলা বাস্তবে তৈরি করে দেখাতেন। এবং তার প্রত্যেকটা আবিষ্কারই ছিল অন্যান্য বিজ্ঞানী থেকে অনেক বিস্ময়কর। নিকোলা টেসলা কে বলা হয় “The Wizard of Electricity” কিন্তু তিনি ছিলেন আসলে “The King of all Scientists”. এবং তার আবিষ্কারই পৃথিবীটাকে আধুনিক করেছে। নিকোলা টেসলা তার জীবনের অর্জিত সমস্ত সম্পদ আবিষ্কারের পেছনে ব্যয় করেছিলেন। পৃথিবী আজ নিকোলা টেসলা কে প্রায় ভুলে গেছে। কিন্তু পৃথিবী মানুষ গুলো খুব ভাগ্যবান যে এমন একজন জ্ঞানী পৃথিবীতে এসে সব কিছু আলোকিত করে দিয়েছিলেন ।

নিকোলা টেসলা

” হ্যাঁ তিনিই নিকোলা টেসলা, যাকে সম্মানকরি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ Engineer হিসাবে এবং আমার চোখে তিনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী ” 💜💜

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here