এডিসন কেন একটি হাতিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করেছিল? | টপসি হাতির করুণ গল্প

0
233

আজ আপনাদের একটি হাতির করুণ পরিণতির গল্প শুনাব। হাতিটির নাম ছিল টপসি। কথায় আছে, সাফল্য পাবার জন্য মানুষ যেকোন সীমা পেরিয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে হয়ত এমনটাই ঘটে থাকবে। বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন। তাকে কে না চেনে? কিন্তু তিনি কি সাফল্যের চরম শিখরে পৌছানোর জন্য কোন হাতিকে হত্যা করতে পারেন? ইতিহাস কি বলে? চলুন জেনে নেয়া যাক, এডিসন কেন একটি হাতিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করেছিল এই রহস্যময় প্রশ্নের সমাধান।

এসি বনাম ডিসি কারেন্টের প্রতিযোগিতা

এসি বনাম ডিসি
এসি বনাম ডিসি

উনিশ শতকের শেষের দিকে এসি এবং ডিসি কারেন্টের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। আমরা সকলেই জানি, ডিসি কারেন্টের জনক টমাস আলভা এডিসন। তিনি সমগ্র পৃথিবীর বৈদ্যুতিক সিস্টেমকে ডিসি কারেন্টের আওতায় আনতে চেয়েছিল। কিন্তু তখনই বাধে এক ঝামেলা। ওয়েস্টিংহাউস নামক এক ইলেকট্রিক কোম্পানি ছিল যারা এসি কারেন্ট তৈরি করত।

ডিসি কারেন্টের তুলনায় এসি কারেন্টের সুবিধা সম্পর্কে জনগণকে বুঝাতে সফল হয়েছিল এই কোম্পানি। তখন এডিসন রীতিমত চিন্তায় পড়ে যায়। এখন অনেকে ভাবতে পারেন যে, এডিসন বনাম ওয়েস্টিং হাউজের প্রতিযোগিতায় টপসি নামক হাতিটির অনুপ্রবেশ কিভাবে ঘটল? এ প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আগে আমি টপসি হাতিটির সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিতে চাই।

টপসি হাতির করুণ গল্প

  • টপসির দেখা মেলে দক্ষিণ এশিয়ার কোনো এক এলাকায়। সময়টা ছিল তখন ১৮৭৫। তখন সে কেবল ছোট একটি হাতি।
  • সেখান থেকে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয়। তার নতুন স্থান হয় ফোরপফ নামক একটি সার্কাস দলে। এ দলটি তখন আকর্ষণীয় হাতির সংগ্রহ নিয়ে প্রতিযোগিতারত ছিল ‘বার্নাম এন্ড বেইলি’ নামে অন্য একটি দলের সাথে।
  • কিন্তু সেখানে সে টিকতে পারছিল না। কারণ, সার্কাসের কর্মীদের চরম নির্যাতন। ঐ সময় হাতিকে নিয়ে সার্কাস খেলা দেখানোর জন্য এমন কিছু কৌশল ছিল যেখানে হাতির উপর করা হত অমানবিক নির্যাতন। এসব নির্যাতন টপসির সাথেও করা হত।
  • এতই নির্যাতন করা হত যে তার লেজ পর্যন্ত বেঁকে গিয়েছিল। তাই অসহ্য হয়ে টপসি সার্কাসের এক কর্মীকে মেরে ফেলে। এরপর সার্কাস থেকে হাতিটিকে বহিষ্কার করা হয়।
  • এরপর হাতিটির জায়গা পায় কনি আইল্যান্ডের লুনা পার্কে। সেখানেও তার উপর একইভাবে নির্যাতন করা হত।
  • ফলশ্রুতিতে সেখানেও টপসি তার প্রতিবাদী রুপ দেখায়। সেখানেও কয়েকজনকে হত্যা করে টপসি।
  • তখন সবাই হাতিটির উপর রীতিমত অসহ্য হয়ে পড়ে। সবাই মিলে হাতিটিকে ফাঁসি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
  • কিন্তু এই প্রক্রিয়া ঘোর অমানবিক হবে বলে একদল প্রতিবাদ তোলে। তখন সিদ্ধান্ত নেয়া হল তাকে বিদ্যুতায়িত করে মারা হবে।
  • অবশেষে এল সেই করুণ দিনটি যেদিন জনসম্মুখে টপসির পায়ে দুটো কপার তার জড়িয়ে এসি প্রবাহের মাধ্যমে তাকে হত্যা করা হয়। তারা এতই নির্মম ছিল যে, নিশ্চয়তার জন্য বিদ্যুতায়িত করার আগে তাকে বিষমিশ্রিত খাবারও খাওয়ানো হয়।
  • আর্টিকেলটি পড়ে হয়ত অনেকের বুক কেঁপে উঠছে এবং মন দুঃখিত হচ্ছে। আমারো খুব কষ্ট হচ্ছে এই আর্টিকেলটি লিখতে।

এবার আসা যাক মূল প্রশ্নে। এই ঘটনায় ত কোথাও এডিসনকে দেখা গেলনা। তাহলে সবাই কেন ভাবে যে এডিসন টপসিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করেছে। চলুন জেনে নেয়া যাক।

এডিসন কেন একটি হাতিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করেছিল?

এ ঘটনায় এডিসনের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি না থাকলেও অনেকে সন্দেহ করেন যে এখানে এডিসনের পরোক্ষ উপস্থিতি ছিল। কিভাবে?

  • প্রথমত টপসিকে এসি প্রবাহের সাহায্যে হত্যা করা হয়েছিল যা মূলত এডিসন এবং ওয়েস্টিং হাউজের প্রতিযোগিতার প্রতিফলনকে ইংগিত করে।
  • অতঃপর এক্সপেরিমেন্টাল উদ্দেশ্যে এডিসনের নামে কুকুর হত্যার অভিযোগ আছে।
  • টপসিকে হত্যার প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করার জন্য যে টেকনিশিয়ানরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল তারা যে কোম্পানি থেকে এসেছিল সেই কোম্পানির নামের সাথে এডিসন যুক্ত ছিল।

মূলত এই সন্দেহগুলো ভিত্তিহীন। এর পেছনেও যথেষ্ট কারণ আছে। যেমনঃ

  • টপসির মৃত্যু হয় ১৯০৩ সালে। কিন্তু এসি বনাম ডিসির প্রতিযোগিতা আরো আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। এডিসন অবশেষে মেনে নিয়েছিলেন যে এসিই জনজীবনে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে।
  • রইল বাকি এডিসন কোম্পানির কথা। মূলত এই কোম্পানির মালিকানা অনেকবার বদল হয়েছিল এবং অনেকের নামের সাথে সংযুক্ত ছিল। তাই এডিসনের সাথে এই কোম্পানির যোগাযোগ আছে কিনা সেটার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মূলত সন্দেহের ভিত্তিতেই বলা হয়, এডিসন নিজেকে প্রমাণ করার জন্যই এই খতরনাক খেলায় মেতেছিলেন। কিন্তু এর কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এসি প্রবাহ, এডিসন কোম্পানির কর্মীরা উপস্থিত থাকা এগুলো নেহাতই কাকতালীয়।

আরো কিছু আর্টিকেল

মহাকাশে মৃত্যু হলে লাশের কি হবে? | মহাকাশ রহস্য

দুবাইয়ে ড্রোন দিয়ে কৃত্রিম বৃষ্টির সৃষ্টি | কিন্তু কিভাবে?

3D হলোগ্রাম টেকনিক এবং ডাইনির ছায়া

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here