পিজিসিবি এর ৭৬৫ কিলোভোল্ট প্রজেক্ট নিয়ে কিছু তথ্য যা জেনে রাখা জরুরি

0
874

আর্টিকেলটি দেখে চমকে উঠেছেন তাইনা? 765 kV লাইন সেটাও আবার বাংলাদেশে। জি, হ্যা আপনি ঠিকই দেখেছেন। পাওয়ার গ্রীড কোম্পানি অব বাংলাদেশ একটি প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত একটি ট্রান্সমিশন লাইন স্থাপন করার। পিজিসিবি এর ৭৬৫ কিলোভোল্ট প্রজেক্ট নিয়ে আজ কিছু তথ্য শেয়ার করব আপনাদের সাথে। এখন প্রশ্ন হতে পারে,

  • কেন ই বা ৭৬৫ কিলোভোল্ট নির্ধারণ করা হল?
  • আর এই অঞ্চলকেই কেন বেছে নেয়া হল?

কেন ৭৬৫ কিলোভোল্ট নির্ধারণ করা হল?

  • প্রথমত আমি আগের একটি আর্টিকেলে বলেছিলাম যে কিভাবে ট্রান্সমিশন ভোল্ট নির্ধারিত হয়।
  • যারা যারা মিস করেছেন তারা ট্রান্সমিশন লাইন ভোল্টেজ নির্ধারণ এবং তুলনামূলক আলোচনা এই লিংকে প্রবেশ করে আর্টকেলটি দেখে নিতে পারেন।
  • সেখানে লোড, দূরত্ব ছিল মুখ্য ফ্যাক্টর। এখানেও লোড, দূরত্বকে প্রাধান্য দিয়েই এই ট্রান্সমিশন ভোল্ট নির্ধারণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অঞ্চলকেই কেন বাছাই করা হল?

  • চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার মধ্যে প্রচুর আবাসিক এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান এবং অনেক প্রতিষ্ঠান নির্মানাধীন রয়েছে।
  • তাই এই রিজিওনে প্রচুর পরিমাণ লোড থাকাটাই স্বাভাবিক।
  • তাই পর্যাপ্ত লোড এবং দূরত্বের জন্যই এই ৭৬৫ কিলোভোল্ট ভোল্টেজ নির্ধারণ করা হয়েছে।

৭৬৫ কিলোভোল্টের ট্রান্সমিশন লাইনটির বিস্তার কতটুকু হবে?

  • এই লাইনটির বিস্তার চট্টগ্রামের মদুনাঘাট থেকে ঢাকার ভুলতা সাবস্টেশন পর্যন্ত। এই দূরত্ব ২৪৫ কিঃমিঃ।
  • অর্থাৎ, মদুনাঘাট একটি জেনারেটিং সাবস্টেশন থাকবে যেখান থেকে জেনারেটিং ভোল্টেজকে স্টেপ আপ করে ৭৬৫ কিলোভোল্টে রুপান্তরিত করা হবে।
  • অতঃপর পথিমধ্যে সেকেন্ডারি গ্রীড সাবস্টেশনের মাধ্যমে এই ভোল্টেজকে ৭৬৫/৪০০ কিলোভোল্টে রুপান্তর করা হবে।
  • সেকেন্ডারি গ্রীড সাবস্টেশন আউটলেট থেকে ৪০০ ভোল্টের আউটগোয়িং লাইন ভুলতা ৪০০/২৩০ কিলোভোল্ট গ্রীড সাবস্টেশনে প্রবেশ করবে।
  • ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের মধ্যে অবস্থিত বিভিন্ন প্রকার পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, ইন্ডাস্ট্রি এই লাইন ব্যবহার করবে।
  • ধারণা করা হচ্ছে, এই ট্রান্সমিশন লাইন বাণিজ্যিকভাবে দারুণ প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে।

এই প্রজেক্টের জন্য আনুমানিক খরচ কত ধরা হয়েছে?

এই প্রজেক্টের জন্য সম্ভাব্য খরচ 50,000 মিলিয়ন টাকা।

এই প্রজেক্টের এর সময়সীমা

পিজিসিবি এর ধারণামতে এই প্রজেক্ট ২০২৩ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে।

সারা দেশে বিদ্যুৎ সঞ্চালনে বেশ ভাল পদক্ষেপ নিচ্ছে পিজিসিবি। অতীতেও এই কোম্পানি দেশের বিদ্যুৎ সঞ্চালনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং সুদূর ভবিষ্যতেও রাখবে বলে আশা রাখি। আমাদের এই আর্টিকেলটি শেয়ার করে পিজিসিবি এর যুগপযোগী পদক্ষেপের কথা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিন। বাংলাদেশ ১০০% বিদ্যুতায়িত হবে বলে জোর আশা রাখি।

আরো কিছু আর্টিকেল

পিজিসিবি (PGCB) কি ধরনের প্রতিষ্ঠান? | স্যালারি, প্যানশন সুবিধা কেমন?

পিজিসিবি (PGCB) এর আয়ের উৎস কি? | ফ্রি হুইলিং চার্জ

ট্রান্সমিশন লাইন ব্যতীত বিদ্যুৎ সঞ্চালন কি সম্ভব?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here