সহজ ভাষায় ইলেকট্রিক্যাল সাধারণ প্রশ্ন – উত্তর যা আপনার জেনে রাখা উচিত

এই লেখাটিতে একদম সহজে নিজের মত করে কারেন্ট, ভোল্টেজ, রেজিস্ট্যান্স, পাওয়ার ফ্যাক্টর, হাউজ ওয়ারিং, ইলেকট্রিক শক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। শুরুতেই দুঃখিত বলে নিচ্ছি যে এই লেখাটি নিজের মত করে লেখা হয়েছে যেখানে প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী না লিখে একটু মজার শুরে শুরে লেখা হয়েছে 🙂

ইতিমধ্যে কারেন্ট, ভোল্টেজ, পাওয়ার ফ্যাক্টর, হাউজ ওয়ারিং নিয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আপনি চাইলে এই ব্লগের সার্চ অপশনে সার্চ করে খুব সহজে কারেন্ট, ভোল্টেজ, পাওয়ার ফ্যাক্টর ইত্যাদি বিষয়ে খুঁজে পেতে পারেন। তাহলে শুরু করা যাকঃ

মূল কথা হল যদি পরিবাহীর মধ্যে দিয়ে ইলেকট্রন প্রবাহিত হয় তাহলেই তাকে ইলেকট্রিসিটি বা বিদ্যুৎ বলে। আমারা অনেকেই ভোল্টেজ ও কারেন্ট কে গুলিয়ে ফেলি আসুন দেখি এগুলো কি? আপনি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য নিজেকে কয়লা বানিয়ে ফেলছেন কেন? কারণ পৃথিবীতে সুন্দরভাবে বাঁচার জন্য এবং পৃথিবীকে ভালো কিছু দিয়ে যাবার জন্য।

এই ভালোভাবে বাঁচার জন্য এবং পৃথিবীকে ভালো কিছু দিয়ে যাবার জন্য আমাদেরকে একটি সিস্টেমের ভিতর দিয়ে যেতে হয়। ভালোভাবে বাঁচার জন্য ভালো একটি চাকরি করতে হবে আর এর জন্য প্রয়োজন ভালো পড়াশুনা, ভালো দক্ষতা অর্জন করা ইত্যাদি ইত্যাদি। আর এই সকল কিছুই আসবে চেষ্টা ও লক্ষ্য এবং সিস্টেম অনুযায়ী কাজ থেকে। আপনার মাথার ভিতর চলে আসবে যে লক্ষ্যে পৌছাতে হবে, চাপ তৈরি হবে। আসলে আমরা অনেকেই চাপ না থাকলে কিছুই করতে চাইনা তেমনি চাপ ছাড়াও কিন্তু ইলেকট্রন চলতে চাইনা। উৎস হতে যে চাপের কারণে ইলেকট্রন প্রবাহিত হয় সেই চাপকে ভোল্টেজ বলে, ইলেকট্রন প্রবাহিত হওয়ার সময় পরিবাহিতে যে বাধার সম্মুখীন হয় তাকে রেজিস্ট্যান্স বলে, এবং ইলেকট্রনের প্রবাহকে কারেন্ট বলে।

ভোল্টেজের প্রতীক V ও একক (Volt) ভোল্ট। রেজিস্ট্যান্স এর প্রতীক R ও একক ওহম, কারেন্টের প্রতীক I (আই) ও একক (A) অ্যাম্পিয়ার। এদের মধ্যে সম্পর্ক হলঃ

V = I * R

চল-বিদ্যুৎ দুই প্রকার

  1. ডিসি
  2. এসি

ডিসির ক্ষেত্রে উৎসের যে প্রান্ত হতে বিদ্যুৎ লোডে আসে তাকে পজিটিভ (+) এবং লোড হতে উৎসের যে প্রান্তে ফেরত যায় তাকে নেগেটিভ বলে (-)

এসির ক্ষেত্রে উৎসের যে প্রান্ত হতে বিদ্যুৎ লোডে আসে তাকে ফেজ (P) এবং লোড হতে উৎসের যে প্রান্তে ফেরত যায় তাকে নিউট্রাল বলে (N)

আমরা প্রতিনিয়ত পজিটিভ এবং ফেজ কে এক করে ফেলি কিন্তু জেনে রাখা ভাল যে ফেজের মধ্যে পজিটিভ এবং নেগেটিভ বিদ্যমান ।

এখন আসি পাওয়ার নিয়ে

পাওয়ার মূলত তিন প্রকার, যথাঃ

  1. Apparent Power (আপাত পাওয়ার) = V * I (ভোল্টেজ* কারেন্ট)
  2. Re Active Power ( প্রতি কার্যকরী পাওয়ার) = V * I * Sin( V এবং I এর মধ্যবর্তী কোণ) (পেনাল্টি পাওয়ার ও বলে)
  3. Active Power ( কার্যকরী পাওয়ার) = V * I * Cos( V এবং I এর মধ্যবর্তী কোণ) (মূলত এই পাওয়ারটাই আমরা ব্যবহার করি)

Cos( V এবং I এর কোণ)

Power factor হল voltage এবং current এর মধ্যে অবস্থিত angle এর Cosine. বিভিন্ন Electrical equipment এর Inductance এবং Capacitance এর কারনে AC সোর্সের Voltage এবং Current এর মধ্যে angle এর difference চলে আসে।

যেমনঃ Inductor সাধারণত Current এর change কে বাধা দেয় ফলে voltage এর থেকে current পিছিয়ে (lag) পড়ে। আবার Capacitor এর বেলায় ঘটনা উল্টো সেক্ষেত্রে Current এগিয়ে (lead) যায়।

এনার্জী পরিমাপ করা হয় ( পাওয়ার * সময় ) দিয়ে যার একক কিলোওয়াট-আওয়ার বা ইউনিট।

ট্রান্সফরমারে ৩ তার প্রবেশ করে ৪ তার (৩টা ফেজ ১টা নিউট্রাল) বের হয় কিভাবে?

প্রাইমারী সাইড সাধারণত ডেল্টাতে সংযোগ থাকে এবং সেকেন্ডারি সাইড স্টার বা Y সংযোগ থাকে। স্টার সংযোগের কমন প্রান্তটি নিউট্রাল। একটি ফেজ হতে আরেকটি ফেজের মধ্যবর্তি ভোল্টেজ কে লাইন ভোল্টেজ এবং একটি ফেজ ও নিউট্রালের মধ্যবর্তি ভোল্টেজকে ফেজ ভোল্টেজ বলে এবং এদের মধ্যে সম্পর্ক লাইন ভোল্টেজ VL = √৩ * ফেজ ভোল্টেজ, অর্থাৎ ১.৭৩* ২২০ = ৩৮০ V

কিন্তু আমরা অনেকেই ৩৮০ বা ৪০০ বা তার কম ভোল্ট কে 440 ভোল্ট বলি। ট্রান্সফরমারের মজার বিষয় হল প্রাইমারী সাইড ও সেকেন্ডারী সাইড উভয়ের মধ্যে তার দিয়ে সংযোগ করা থাকেনা। যদি কখনো আপনার বাসার নিউট্রাল ফেইল করে তবে নিউট্রাল তারকে মাটিতে পুতে দিন কাজ হয়ে যাবে।

আমরা অনেকেই মনে করি পৃথিবী নিউট্রালের কাজ করে কিন্তু বাস্তবে তা নয়। আপনি যদি ট্রান্সফরমারের নিউট্রালকে মাটিতে না পুতেন (আর্থিং) তাহলে কাজ হবেনা অর্থাৎ পৃথিবী তারের কাজ করে নিউট্রালের নয়।

এবার আসি হাউজ ওয়্যারিং এর বিষয়ে

অনেকেই লাল তার দেখলেই সেটাকে ফেজ মনে করেন আর কালো দেখলে নিউট্রাল মনে করেন কিন্তু সাবধান, আপনি যদি কালো তারকে ফেজের সঙ্গে যুক্ত করেন তবে সেটাও ফেজ তার হয়ে যাবে। কাজের আগে টেস্টার দিয়ে টেস্ট করুন।

হাউজ ওয়্যারিং এর আগে লোড সম্পর্কে একটু বলি। যে ডিভাইটি বৈদ্যুতিক শক্তি গ্রহন করে অন্য শক্তিতে পরিণত করে তাই লোড। আপনি যখন ওয়্যারিং করবেন তখন মনে রাখবেন লোডের দুই প্রান্তে ফেজ ও নিউট্রাল তার যুক্ত করতে হবে অন্য কোথাও না। তবে কিছু কিছু ডিভাইস আছে যেগুলো লোড নয় কিন্তু সেখানে লোড সংযুক্ত করবো, সেখানেও ফেজ নিউট্রাল সংযোগ করতে হবে যেমন- সকেট, সিলিংরোজ, কানেকটর ইত্যাদি।

অনেকেই মনে করেন ডিসি সাপ্লাই শক করেনা। ডিসিতে এসির চেয়ে বেশী শক করে। আসলে আমরা যে ডিসি ব্যাটারী ধরি তার ভোল্ট ১.৫ থেকে ১২ ভোল্ট তাই শক করেনা, ৬০ ভোল্টের উপরে গেলেই কেবল শক অনুভব করি।

আসলে শক করা নির্ভর করে ভোল্টের উপর এবং মৃত্যু নির্ভর করে আপনার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত কারেন্ট এর উপর। সাধারণত ১০ মিলি অ্যাম্পিয়ার এর চেয়ে বেশি (বাল্বের মধ্যদিয়ে যে পরিমান কারেন্ট প্রবাহিত হয় তার কাছাকাছি) কারেন্ট যদি আপনার দেহের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় তবে ইন্না লিল্লা…….। ভাগ্য ভালো সৃষ্টিকর্তা আমাদের দেহে প্রায় ২ মেগাওহম রেজিস্ট্যান্স দিয়েছেন না হলে বিদ্যুৎ আর ব্যবহার করতে হতো না।

অনেকেই মনে করেন যে সকল প্রাণী ডিম পারে তাদের শক করেনা ব্যাপারটি তাই, আসলে তাদের গায়ে লোম বা পালক থাকে, পায়ে ইনসুলেশন করা থাকে তাছাড়া এগুলো এক তারের উপর বসে তাই এদের মধ্যদিয়ে কারেন্ট প্রবাহিত হয় না। পালক তুলে সাপ্লাই দিয়ে দেখেন কি হয়? পাখির মত আপনি একতার ধরে ঝুলে থাকলে আপনাকেও শক করবেনা। বাদুরের কপাল মন্দ তাই ওর গায়ে লোম নেই পাখাটাও বড় তাই দেখবেন বাদুর কমপক্ষে দুই তারের মধ্যে আটকে থাকে।

(সংগৃহীত)

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here