কিভাবে বুঝব কোনটি ডিস্ট্রিবিউশন সাবস্টেশন বা গ্রীড সাবস্টেশন ?

মনে করুন রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছেন । হঠাৎ করে একটি সাবস্টেশন চোখে পড়ল। ইলেট্রিক্যাল এর ছাত্র হিসেবে এ ব্যাপারে কৌতূহল হওয়াটাই স্বাভাবিক। আপনি লক্ষ্য করলেন সাবস্টেশনটিতে কারেন্ট ট্রান্সফর্মার, পটেনশিয়াল ট্রান্সফর্মার, সার্কিট ব্রেকার, লাইটনিং এরেস্টার সব ডিভাইস রয়েছে। কিন্তু এটা নিশ্চিত হতে পারছেন না “এটি কোন ধরনের সাবস্টেশন”? গ্রীড সাবস্টেশন নাকি ডিস্ট্রিবিউশন সাবস্টেশন?? গ্রীড এবং ডিস্ট্রিবিউশন সাবস্টেশনের পার্থক্য বুঝার কিছু কৌশল আছে । চলুন আলোচনা করা যাক।

ইনকামিং লাইন বা টাওয়ার এর প্রকৃতি দেখে

যদি গ্রীড সাবস্টেশন হয় তাহলে এতে ১৩২, ২৩০, ৪০০, ৫০০, ৭৬৫, ৮০০ কিলোভোল্ট এর থ্রি ফেইজ ডাবল বা ট্রিপল সার্কিট ইনকামিং লাইন থাকবে। আর ডিস্ট্রিবিউশন সাবস্টেশনে ৩৩ কিলোভোল্ট এর ইনকামিং লাইন থাকবে। এখন প্রশ্ন হতে পারে আমি কিভাবে বুঝব কোনটি কত কিলোভোল্টের লাইন?

১৩২, ২৩০, ৪০০ কিলোভোল্ট লাইন চেনার উপায়

সাধারণত এগুলো ট্রান্সমিশন লাইন হিসেবে পরিচিত। এই টাওয়ারগুলো ২৫-২৮ মিটারর পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। এতে সাসপেনশন টাইপ ইনসুলেটর থাকে। ডাবল সার্কিট লাইনে এর ক্রসআর্মের দুপাশে তিনটি করে মোট ছয়টি লাইন বিদ্যমান। টাওয়ারের শীর্ষে সরু এক ধরনের তার থাকে যাকে বলা হয় অপটিক্যাল গ্রাউন্ড ওয়্যার। এই লাইনগুলোতে তারের স্যাগ খুব বেশি। কিছু কিছু ট্রান্সমিশন লাইনে নীল, কমলা বর্ণের মার্কার বল ব্যবহার করা হয়। ট্রান্সমিশন লাইনে ভোল্টেজ বৃদ্ধি পাবার সাথে সাথে টাওয়ার এর উচ্চতা বৃদ্ধি পায়, ইনসুলেটর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, পরিবাহীর আকার হ্রাস পায়। এই সমস্ত বিষয়াবলি পর্যবেক্ষণ করে ট্রান্সমিশন লাইন চিহ্নিত করা সম্ভব

৩৩ কিলোভোল্ট এর লাইন কিভাবে সনাক্ত করব?

৩৩ কিলোভোল্ট এর পোলগুলো সাধারণত ১০-১৫ মিটার লম্বা হয়ে থাকে। আর এতে সাধারণত পিন টাইপ ইন্সুলেটর ব্যবহার করা হয়। এই টাইপের ইন্সুলেটরগুলো বাদামী বর্ণের এবং পোর্সেলিন দিয়ে তৈরি। ক্রসআর্মের দুপাশে ইন্সুলেটরগুলো বিন্যস্ত থাকে। এই লাইনগুলোয় তারের স্যাগ কম থাকে। এতে DOF (Drop out Fuse) লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া এখানে লাইটনিং এরেস্টার গ্রাউন্ড ওয়্যার এর সাথে লুপিং করা থাকে।

উপকেন্দ্র
132 kV এবং 33 kV লাইন
132 kV এবং 33 kV লাইন

ড্রপ আউট ফিউজ কি?

11 to 33 kV ডিস্ট্রিবিউশন লাইনকে অতিরিক্ত ভোল্টেজ কিংবা প্রবাহ থেকে মুক্ত করার জন্য এই ডিভাইসটি অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় আচরণ করে। এটা টিন অথবা সিলভার এলোয় দিয়ে তৈরি।

ফিউজটির সাথে স্টিক এর মত অংশটির নাম ” ফিউজ লিংক ” বা আইসোলেটর। যেটা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অর্থাৎ লাইন ফল্ট এর দরুণ ফিউজ পুড়ে গেলে একে লাইন থেকে আলাদা করতে সাহায্য করে। এটা ফাইবার গ্লাস দিয়ে তৈরি।

ফিউজটির এম্পিয়ার রেটিং ১ থেকে ২০০ এম্পিয়ার পর্যন্ত। 
এটাকে লাইনের সাথে ২০ ডিগ্রী এঙ্গেল করে স্থাপন করতে হয় যেন সেন্টার অব গ্র‍্যাভিটির দরুণ এটা লাইনে সঠিকভাবে স্থাপিত হতে পারে।

উপকেন্দ্র 
ড্রপ আউট ফিউজ
ড্রপ আউট ফিউজ

সাবস্টেশনের ক্ষেত্রফল বিবেচনা করে

সাবস্টেশনের ক্ষেত্রফল বিবেচনা করেও গ্রীড এবং ডিস্ট্রিবিউশন সাবস্টেশন সনাক্ত করা যায়।

গ্রীড সাবস্টেশন ডিস্ট্রিবিউশন সাবস্টেশনের তুলনায় দুই থেকে তিনগুণ ক্ষেত্রফলবিশিষ্ট। গ্রীড উপকেন্দ্রের ক্ষেত্রফল ১০০০-৫০০০ বর্গফুট পর্যন্ত হতে পারে।

ইলেক্ট্রিক্যাল ডিভাইসের আকার বিবেচনায়

গ্রীড সাবস্টেশনের ক্যাপাসিটি ১০-৫০০ MVA এবং ডিস্ট্রিবিউশন সাবস্টেশনের ক্যাপাসিটি ১-৫ MVA পর্যন্ত হয়ে থাকে। তাই গ্রীড সাবস্টেশনের লোড কারেন্ট রেটিং ডিস্ট্রিবিউশন সাবস্টেশনের তুলনায় অনেক বেশি। তাই স্বাভাবিকভাবেই গ্রীড সাবস্টেশনের কারেন্ট ট্রান্সফর্মার, পটেনশিয়াল ট্রান্সফর্মার, পাওয়ার ট্রান্সফর্মার, লাইটনিং এরেস্টর, আইসোলেটর, বাসবারের সাইজ ডিস্ট্রিবিউশন সাবস্টেশনের তুলনায় অনেক বড় হবে। তাই ডিভাইস সাইজ এর মাধ্যমে দুটো সাবস্টেশনের মধ্যে পার্থক্য করা খুব ই সহজ।

সার্কিট ব্রেকার পর্যবেক্ষণ করে

সার্কিট ব্রেকার দেখেও দুটি সাবস্টেশনের মধ্যে পার্থক্য করা যায়। যেমনঃ গ্রীড সাবস্টেশনে SF6 ব্রেকার আর ডিস্ট্রিবিউশন সাবস্টেশনে VCB ব্যবহৃত হয়।

SF6 = Sulphur Hexafluoride Circuit Breaker

VCB = Vacuum Circuit Breaker

SF6 ব্রেকার সাধারণত পাওয়ার গ্রীড ৪০০/২৩০/১৩২/৩৩ কিলোভোল্ট সাবস্টেশনে এবং VCB সাধারণত ৩৩/১১ কিলোভোল্ট সাবস্টেশনে ব্যবহার করা হয়।

উপকেন্দ্র 
SF6 এবং VCB সার্কিট ব্রেকার
SF6 এবং VCB সার্কিট ব্রেকার

সাবস্টেশন নিয়ে আরো পোস্ট

সাবস্টেশন সিনক্রোনাইজেশন এবং দলীয় নৃত্যের ছন্দ

সাবস্টেশনে পাওয়ার লাইন ক্যারিয়ার কমিউনিকেশন | Power Line Carrier

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here