মোবাইল ব্যাটারি ভাল রাখতে কি কি পদক্ষেপ নেয়া যায়?

আজ আপনাদের সাথে একটি দরকারি টপিক আলোচনা করব। 4G এর যুগে এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর যার কাছে মোবাইল ফোন নেই। কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবার হাতেই এখন মোবাইল। তিনবেলা ভাত না খেয়ে থাকা যায় কিন্তু তিনবেলা মোবাইল ছাড়া যেন জীবন বিষাদময়। এই মোবাইলের চালিকাশক্তি হল তার ব্যাটারি। তাই এই ব্যাটারির পরিচর্যা করাটাও আমাদের দায়িত্ব। আর ইলেকট্রিক্যালের ছাত্র হলেতো সেই দায়িত্ব বেড়ে যায় বহুগুণে। আজ আপনাদের সাথে মোবাইল ব্যাটারি ভাল রাখতে যেসব পদক্ষেপ নেয়াটা জরুরি সেগুলো আলোচনা করা হবে।

মোবাইল ব্যাটারি
মোবাইল ব্যাটারি

মোবাইলের ব্যাটারি ভালো রাখতে হলে কি কি পদক্ষেপ নেয়া জরুরি?

ব্যাটারি চার্জিং এর ক্ষেত্রে সচেতনতা

  • কোনোদিন ব্যাটারি ০% বা ১০০% চার্জ করবেন না। সবসময় ব্যাটারির চার্জ DOD অনুসারে দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
  • DOD (Depth Of Discharge) হচ্ছে কোন মোবাইল ব্যাটারির সর্বোচ্চ ডিসচার্জিং ক্যাপাসিটি যা বেশিরভাগ মোবাইলের ক্ষেত্রে ৫০% এবং উন্নত মোবাইলের ব্যাটারির ক্ষেত্রে ৮০%।
  • মোটকথা মোবাইল চার্জ ২০% থেকে ৮০% মেন্টেইন করার চেষ্টা করবেন।
  • মাসে একবার চার্জ ০% করে আবার ১০০% করবেন। এতে ব্যাটারির লাইফ টাইম প্রায় দেড় থেকে দুই বছর বাড়াতে পারবেন।

চার্জার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনা

  • সবসময় কোম্পানির দেওয়া চার্জার ব্যাবহার করা উচিত বা হারিয়ে গেলে একই রেটিং এর চার্জার কিনবেন। যেমন ৫V-২A বা ৫V-১A।
  • তাই আপনার চার্জারের রেটিং দেখে রাখাটা জরুরি।

মোবাইল ব্যাকগ্রাউন্ড

  • মোবাইল ব্যাকগ্রাউন্ড কিন্তু অনেক চার্জ টানে।
  • এইসব অ্যাপগুলোকে দেখে তাদের ব্যাটারি ইউজেজ ব্লক করবেন।
  • কারণ এরকম হলে দিনে অনেকবার চার্জ দিতে হবে ও ব্যাটারির চার্জ সাইকেল কমবে।

গরম স্থানে না রাখা

খুব গরম স্থানে মোবাইল রাখবেন না যেমন সূর্যের আলোয়, পিসি এর ওপর। তাহলে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির চার্জ ক্যাপাসিটি কমবে।

এমনিতে একটা ফোন যদি আপনি একবছর ইউজ করেন তাহলে পরের বছর আপনার ফোনের ব্যাটারির ৮৫% থেকে যায়। মানে আপনার ফোনে ৪০০০mAh এর ব্যাটারি হলে পরের বছর তা ৩৪০০mAh হয়ে যায়। তাই যদি এই পয়েন্টগুলো ফলো করেন তাহলে প্রায় তিন বছর আপনি ফোনটিতে ভালো ব্যাটারি ব্যাকআপ পাবেন। আর এই mAh (mili ampere hour) টা হল ব্যাটারির চার্জ storage capacity।

কিভাবে?

চলুন ফিরে যাই পিচ্চিকালের সময়ে। কারেন্টের সমীকরণ থেকে আমরা জানি,

I = q/t বা, q = I (Ampere) x t (hour)বা, চার্জ = বিদ্যুৎ প্রবাহ x সময়

এই সূত্র ব্যবহার করে ব্যাটারির চার্জ কতক্ষণ থাকবে তার হিসেব

ব্যাটারির আয়ুষ্কাল বা চার্জ কতক্ষণ থাকবে এটা নির্ভর করবে সার্কিট এর কারেন্ট প্রবাহের উপর। যেমনঃ যদি আমার ব্যাটারি যদি 3000 mAh হয়, আর আমার সার্কিট যদি 200mA কারেন্ট নেয় তাহলে আমার ব্যাটারির আয়ুষ্কাল হবে,

I = q/t বা t = q/I = 3000/2000 = 15 hr. তার মানে ব্যাটারি ফুল চার্জড থাকলে সম্পূর্ণ চার্জ discharge করতে তার 15 hr সময় লাগবে। অর্থাৎ, এই mAh ratings থেকে আমরা ব্যাটারির আয়ুষ্কালও জানতে পারি।

ওয়াইফাই, মোবাইল ডাটা অন রেখে মোবাইল চার্জে না দেয়া

অনেকেই আছেন যারা ওয়াইফাই, মোবাইল ডাটা অন রেখেই মোবাইল চার্জে দিয়ে থাকেন। এই কাজটি মোটেও করা যাবেনা। এতে ব্যাটারির উপর চাপ সৃষ্টি হবে।

শুধু মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে জানলেই হবেনা, মোবাইলের এই খুটিনাটি ব্যাপারগুলোও জানা থাকা আবশ্যক। তাই এই ব্যাপারটি আপনার ফ্যামিলির সদস্য এবং বন্ধু/কলিগদের সাথে আজই শেয়ার করুন। এতে অন্যদেরও উপকার হবে আশা করি।

Mobile Battery নিয়ে আরো পোস্ট

মোবাইল ফোন ঘনঘন চার্জ দিলে ব্যাটারির ক্ষতি হবে কি?

মোবাইল ব্যাটারি নিয়ে কিছু প্রশ্ন যা সকলের মনে উঁকি দেয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here