মোটর নেমপ্লেট সম্বন্ধে সহজ ভাষায় বিস্তারিত আলোচনা

2
1565
মোটর নেমপ্লেট

মোটর সম্বন্ধে আমরা পূর্বে বিস্তারিত বিষয় আলোচনা করছি। কিন্তু মোটরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো বাকি রয়ে গেলো। আপনাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ যে এই বিষয়টি আমাদেরকে অবগত করার জন্য।

মোটর সম্বন্ধে সমস্ত লেখা পড়ুন

আমদের ফেসবুকে অনেক বন্ধু এই বিষয়টি নিয়ে লেখার জন্য অনুরোধ পাঠিয়েছেন।  জি, মোটর নেমপ্লেট বিষয়ে আজ খুঁটিনাটি আলোচনা করবো। মোটরের নেমপ্লেট যদি আমরা ভালভাবে বুঝি তাহলে রেটিং এর কোন মোটরটি বেশি ভাল বা কার্যক্ষম ভাল তার পার্থক্য করতে পারবো। এছাড়া আপনি যদি মোটর কিনতে যান তাহলে এই নেমপ্লেট সম্বন্ধে ভালো ধারণা থাকতে হবে। তাহলে চলুন একনজরে দেখি কোন বিষয়গুলো থাকছে।

  1. মোটরের নেমপ্লেটে ভোল্টেজ দেখে কি বুঝবো?
  2. মোটরের নেমপ্লেটে পাওয়ার দেখে কি বুঝবো?
  3. মোটরের নেমপ্লেটে কারেন্ট দেখে কি বুঝবো?
  4. মোটরের নেমপ্লেটে ফেজ লেখা থাকলে কি বুঝবো?
  5. মোটরের নেমপ্লেটে আরপিএম লেখা আছে, এতে কি বুঝা যায়?
  6. মোটরের নেমপ্লেটে ENCL-ODP/TEFC অর্থাৎ এনক্লোজার থাকলে কি বুঝবো?
  7. মোটরের নেমপ্লেটে INS-B অথবা INS-CL-F অর্থাৎ ইন্সুলেশন দ্বারা কি বুঝায়?
  8. মোটরের নেমপ্লেটে “Design: B” “NEMA Design: A” লেখা থাকে, এর দ্বারা কি বুঝায়?
  9. মোটরের নেমপ্লেটে SF-1.15 লেখা থাকে, এর দ্বারা কি বুঝায়?
  10. মোটরের কোড “CODE-E” বা “KVA CODE-D” দ্বারা কি বুঝায়?
  11. মোটরের নেমপ্লেটে “DUTY-CONT” লেখা থাকে, এর দ্বারা কি বুঝায়?
  12. মোটরের নেমপ্লেটে “AMB-40’C” বা এম্বিয়েন্ট টেম্পারেচার দ্বারা কি বুঝায়?
  13. মোটরের নেমপ্লেটে “FRAM-143T” লেখা থাকে, এটা দ্বারা কি বুঝায়?
  14. মোটরের নেমপ্লেটে Altitude দ্বারা কি বুঝায়?
  15. মোটরের নেমপ্লেটে পাওয়ার ফ্যাক্টর দ্বারা কি বুঝায়?

মোটর নেমপ্লেট ভোল্টেজ দেখে কি বুঝবো?

তিন ফেজ মোটর নেমপ্লেট এভাবে প্রায় লেখা থাকে “230Δ/400Y (13.6/7.8A)“। 230Δ এর মানে ডেল্টাতে ২৩০ ভোল্ট এবং কারেন্ট ১৩.৬ এম্পিয়ার। 400Y বলতে স্টারে ৪০০ ভোল্ট এবং কারেন্ট 7.8 এম্পিয়ার।

বুঝার সুবিধার্থে এবার একটা উদাহরণ দিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করি। ধরি, আমাদের একটা ৪ কিলোওয়াটের ৩ ফেজ ইন্ডাকশন মোটরে আছে যার নেমপ্লেটে 230Δ/400Y (13.6/7.8A) এমনটা লেখা আছে।

এর মানে মোটরটি দুটি আলাদা ভোল্টেজে চালানো যাবে অর্থাৎ ডেল্টার জন্য এক ভোল্টেজ এবং স্টারের জন্য আরেক ভোল্টেজ।

৩ ফেজ ইন্ডাকশন মোটরের জন্য ৩ ফেজ পাওয়ার এসেছে ৩ তার দিয়ে। এবার যদি আমি ২ তারের মধ্যেদিয়ে ২৩০ ভোল্ট পাই তাহলে আমার লাইন ভোল্টেজ হবে ২৩০ ভোল্ট।

এবার যদি আমি এই ভোল্টেজে ৪ কিলোওয়াট আউটপুট পেতে চায় তাহলে মোটরটি অবশ্যই ডেল্টাতে কানেক্ট করতে হবে এবং এই মোটরটি কারেন্ট নিবে ১৩.৬ এম্পিয়ার।

ঠিক তেমনি লাইন ভোল্টেজ ৪০০ থাকলে ৪ কিলোওয়াট পাওয়ার পেতে আমাকে স্টারে কানেকশন করতে হবে যা কারেন্ট নিবে ৭.৮ এম্পিয়ার।

যদি লাইন ভোল্টেজ ২৩০ ভোল্ট হয় তাহলে স্টারে চালানো যাবে কিন্তু মোটরের আউটপুটে ৩ ভাগের একভাগ আউটপুট দিবে ও যেসকল মোটর ডেল্টাতে ফুল আউটপুট দেয় তাদের স্টার-ডেল্টা স্টার্টার এর মাধ্যমে চালানো যাবে।

কিন্তু কোন মোটর স্টারে ৪০০ ভোল্টেজ ফুল আউটপুট পাওয়া যাবে উল্লেখ থাকলে ঐ মোটর কোনভাবেই ডেল্টাতে কানেক্ট করা যাবে না। ঐ মোটর ডেল্টাতে কানেক্ট করলে ৪*৩=১২ কিলোওয়াট মোটর হিসেবে চলতে শুরু করবে। 

যেহেতু ভোল্টেজ স্থির সুতারাং এই পরিমাণ পাওয়ার উৎপন্ন করতে লাইন কারেন্ট নিবে তার রেটেড স্টার লাইনে কারেন্টের ৩গুন অর্থাৎ ৭.৮*৩=২৩.৪ এম্পিয়ার। এর ফলে প্রতিফেজের ভিতর দিয়ে যাবে ২৩.৪/√৩ = ১৩.৫২ এম্পিয়ার যা প্রায় দিগুণ। এর ফলে কয়েল পুড়ে যেতে পারে।

মোটর নেমপ্লেট পাওয়ার দেখে কি বুঝবো?

মোটরের গায়ে লেখা কিলোওয়াট হচ্ছে মোটরের মেকানিক্যাল আউটপুট যা সাধারণত হর্স পাওয়ারে প্রকাশ করা হয়। আমরা যদি মোটরের কারেন্ট মোটরের গায়ে লেখা কিলোওয়াট দিয়ে বের করি তাহলে কখনো কারেন্টের মান মোটরের গায়ে লেখা কারেন্টের মানের সাথে মিলবে না।

যেমনঃ এক ফেজের জন্যঃ (KW*1000)/V*cosθ,  তিন ফেজের জন্যঃ (KW*1000)/√3 *V*cosθ 

KWএর মান যদি মোটরের গায়ে লেখা মান দিয়ে হিসাব করি তাহলে মিলবে না। এর কারন কিলোওয়াট হচ্ছে মোটরের মেকানিক্যাল আউটপুট। মোটর ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ারকে মেকানিক্যাল পাওয়ারে রূপান্তরিত করার সময় কিছু লস হয় যা আমরা মোটর লেখাতে জেনেছি।

একটি মোটর সর্বমোট যে পাওয়ার গ্রহণ করে তা মোটরের ইনপুট পাওয়ার। মোটরের সর্বমোট পাওয়ার বের করতে হলে প্রথমে ইনপুট পাওয়ার বের করতে হবে, এক্ষেত্রে আউটপুট পাওয়ার কে মোটরের দক্ষতা দিয়ে ভাগ করতে হবে এবং এই দক্ষতার মান মোটরের গায়ে লেখা থাকবেঃ EFF: 85% অথবা NOM. EFF:85%। এর মানে মোটর ইনপুট পাওয়ারের ৮৫ ভাগ আউটপুট দিবে। 

মোটর নেমপ্লেট কারেন্ট দেখে কি বুঝবো?

মোটরের গায়ে অনেক সময় এইভাবে লেখা থাকেঃ FLA – 17A। FLA-Full Load Ampere 17.

যখন একটি মোটর লোডবিহীন অবস্থায় চলে তখন যে কারেন্ট নেয় সেটাকে নো-লোড কারেন্ট বলে যার পরিমাণ অনেক কম। সাধারণত মোটর রোটর কে ঘুরাতে এই কারেন্ট নিয়ে থাকে। এই অবস্থায় মোটর কোন কাজ করছে না।

ধরি, একটি মোটর নিচে থেকে ৫ তলা ভারি কিছু উঠাবে। মাথায় রাখতে হবে কোন বস্তুকে উপরে নিতে চাইলে তার মাধ্যাকর্ষণ শক্তি নিচের দিকে টানবে। এই অবস্থায় বস্তুটিকে মোটরের রোটর কাপ্লিং করা হলে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি চাইবে রোটরকে নিচের দিকে টেনে ধরতে।

ঠিক ঐ সময় মোটর নো লোড কারেন্ট থেকে বেশি কারেন্ট নেওয়া শুরু করবে। এই কারেন্ট দ্বারা মোটর টর্ক তৈরি হবে এবং ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ারকে মেকানিক্যাল পাওয়ারে রূপান্তরিত করবে।

মোটরের রোটরকে যত ঘুরতে বাঁধা দেওয়া হবে তত মোটর বেশি কারেন্ট নিবে এবং ঘুরতে চাইবে। মোটর যখন তার মেকানিক্যাল আউটপুট দেয় এবং সেসময় মটর যেপরিমাণ কারেন্ট নেয় তাকে ফুল লোড এম্পিয়ার বলে এবং এটা সাপ্লাই ভোল্টেজের উপর নির্ভর করে থাকে।

যখন নেমপ্লেট অনুযায়ী ভোল্টেজ দেওয়া হবে তখন ভোল্টেজ ৩ ফেজে সমান হবে এবং মোটর তার নেমপ্লেটে উল্লেখিত এম্পিয়ার নিবে।

মোটরের এই কারেন্টের মানের উপর নির্ভর করেই মোটরের ক্যাবল সাইজ, ওভারলোড রিলের মান নির্ধারণ করা হয়।

মোটরের নেমপ্লেটে ফেজ লেখা থাকলে কি বুঝবো?

এর দ্বারা বুঝায় মোটর কত ফেজ সাপ্লাইয়ে চলবে। ১ ফেজ মোটর না ৩ ফিজ মোটর এটা মোটর নেমপ্লেট উল্লেখ থাকবে।

মোটরের নেমপ্লেটে আরপিএম লেখা আছে, এতে কি বুঝা যায়?

RPM-Revolution Per Minute যার অর্থ প্রতি মিনিটে ঘুর্ণন সংখ্যা। এটা সব মোটর নেমপ্লেট দেওয়া থাকে। মোটরের স্লিপের উপর নির্ভর করে আরপিএম এর মান মোটর নেমপ্লেট লেখা হয়। এটা মোটরের সর্বোচ্চ স্পীড যা মোটর দিতে পারে যখন আউটপুটে ফুল লোড মেকানিক্যাল পাওয়ার দেয়।

মোটরের গায়ে এভাবে লেখা থাকেঃ F/L RPM:2800 বা 2800r/min

মোটরের নেমপ্লেটে ENCL-ODP/TEFC অর্থাৎ এনক্লোজার থাকলে কি বুঝবো?

অনেক সময় মোটর নেমপ্লেট ENCL-ODP/TEFC লেখা থাকে। ENCL  এর পূর্ণনাম হলো Enclosure যার অর্থ কোন কিছু চারিদিকে ঘেরাও করা। এখানে এনক্লোজার বলতে মোটরের সম্পূর্ণ বডিকে বুঝানো হয়েছে যার ভিতরে সমস্ত অংশ আবদ্ধ থাকে।

ইন্ডাকশন মোটরের ইনক্লোজার দুই ধরনের হয়ঃ একটি হচ্ছে ODP-Open drip Proof এবং অন্যটি TEFC-Totally Enclosed fan coolded. কোন মোটরের পারিপার্শ্বিকতা থেকে কতটা নিরাপদ এবং মোটর ঠাণ্ডা হবার প্রক্রিয়া কেমন হবে তা এই এনক্লোজার দেখে বুঝা যায়।

ODP-Open drip Proof এর ক্ষেত্রে মোটরের ভিতরে সরাসরি বাতাস প্রবেশের রাস্তা থাকে এর ফলে কয়েলগুলো সহজেই ঠাণ্ডা হতে পারে এবং মোটর খাড়াভাবে পড়া পানির থেকে নিরাপদ থাকে যদি পানির ফোটার এঙ্গেল ০-১৫ ডিগ্রী মধ্যে হয়। এই মোটর পানিরোধক নয়।

TEFC-Totally Enclosed fan coolded এই মোটরের ভিতরে সরাসরি বাতাস প্রবেশ করতে পারে না ও শ্যাফটের বিপরীত দিকে একটি ফ্যান লাগানো থাকে যা মোটরের সাথে সমান গতিতে ঘুরে। এই মোটর পানি বা বায়ু প্রবেশ করতে পারে না। 

মোটরের গায়ে বা নেমপ্লেটে IP লেখা থাকে কেন বিস্তারিত পড়ুন 

মোটরের নেমপ্লেটে INS-B অথবা INS-CL-F অর্থাৎ ইন্সুলেশন দ্বারা কি বুঝায়?

মোটর নেমপ্লেট INS-B অথবা INS-CL-F লেখা থাকে।  INS বলতে ইন্সুলেশন বুঝায়। আমরা জানি মোটরের কয়েলগুলো একটির সাথে আরেকটি লেগে থাকে সত্ত্বেও শর্ট সার্কিট হয় না, এর কারন ইন্সুলেশন।

তাপমাত্রার সাথে ইন্সুলেশনের সম্পর্ক রয়েছে। তাপমাত্রা বেশি হলে ইন্সুলেশন দূর্বল হয়ে যায় এবং বাড়তে থাকলে একসময় ইন্সুলেশন ভেঙ্গে যাবে ফলে শর্ট সার্কিট হবে।

মোটরের তাপমাত্রা নির্ভর করে মোটরের আশেপাশের তাপমাত্রা এবং মোটরের কোর লস ও কপার লস এর উপর। এই তাপমাত্রার যোগফল মূলত অপারেটিং টেম্পারেচার বলে। আর টেম্পারেচার দিক নির্দেশনা হচ্ছে ইন্সুলেশন ক্লাস।

ইন্সুলেশন ক্লাস প্রকাশ করা হয়ঃ A, B, F, H ইত্যাদি দ্বারা। বর্ণমাল যত পরে আসে সেই মোটরের ইন্সুলেশন তত ভালো অর্থাৎ F গ্রেডের ইন্সুলেশন A,B এর থেকে ভালো কিন্তু H এর চেয়ে খারাপ।

মোটর কেনার সময় বেশি ইন্সুলেশন আছে এমন মোটর কেনা উচিৎ। এইসকল মোটর বেশি টেকসই হয়ে থাকে।

মোটরের নেমপ্লেটে “Design: B” “NEMA Design: A” লেখা থাকে, এর দ্বারা কি বুঝায়?

মোটরের নেমপ্লেটে “Design: B” “NEMA Design: A” লেখা থাকে যার মানে ডিজাইন কোড। ইন্ডাকশন মোটর বিভিন্ন ধরনের লোড পরিচালনা করে থাকে। এই মোটর কোন জায়গায় বাতাস দিচ্ছে আবার কখন ক্রেন হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে সেটা হচ্ছে মোটরের সিন্ট্রিফিউগাল বা কেন্দ্রবিমুখী লোড। বিভিন্ন লোডের টর্কের চাহিদাও ভিন্ন।

মোটরের ডিজাইন কোড নির্দেশ করে কোন মোটরের স্টার্টিং টর্ক কেমন। এর উপর ভিত্তি করে মূলত ইন্ডাকশন মোটর ৪ ভাবে বিভক্ত; এদেরকে A, B, C, D গ্রেডে ভাগ করা হয়েছে।

মোটর নেমপ্লেট

একটি জায়গায় ব্যবহার হচ্ছে এমন মোটর কে সরিয়ে একই রেটিং এর আর একটি মোটর ব্যবহার করলে যাদের ডিজাইন কোড আলাদা সেক্ষেত্রে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।

মোটর নেমপ্লেট SF-1.15 লেখা থাকে, এর দ্বারা কি বুঝায়?

SF-Service Factor, SF-1.15 দ্বারা বুঝায় মোটর নেমপ্লেট কিলোওয়াটের ১৫% অধিক আউটপুট দিতে পারবে অল্প সময়ের জন্য যদি ঐ সময় মোটরের ভোল্টেজ তার টলারেন্স মানের ভিতরে থাকে।

মোটরকে মাঝে মাঝে অনেক লোড নিতে হয় যা স্থায়ী নয়। এর উপর নির্ভর করে মোটরকে ডিজাইন করা হয়। মোটরকে কখনই সার্ভিস ফ্যাক্টর মানে দীর্ঘ সময় চালানো ঠিক নয় কারন এতে মোটরের টর্ক, তাপমাত্রা, দক্ষতা প্রভাবিত হয়।

সার্ভিস ফ্যাক্টরের মান ১ এর উপরে দেয়া হয় বিভিন্ন বিষয়ের উপর মাথায় রেখে যেমনঃ তাপমাত্রা, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মোটরের উচ্চতা, উচ্চ বা নিম্ম লাইন ভোল্টেজ (imbalance line voltage)। এই প্রভাব দূর করার জন্য সার্ভিস ফ্যাক্টরের মান ১ এর উপরে দেয়া হয়।

Open drip proof মোটরের সার্ভিস ফ্যাক্টরের মান থাকে ১.১৫ এবং Totally enclosed fan cooled মোটরের সার্ভিস ফ্যাক্টর থাকে ১.০। অনেক ক্ষেত্রে সার্ভিস ফ্যাক্টরের মান লেখা থাকে না। ঐ সকল মোটরকে সার্ভিস ফ্যাক্টর ১ ধরে নিতে হবে।

মোটরের কোড “CODE-E” বা “KVA CODE-D” দ্বারা কি বুঝায়?

মোটরের কোডঃ আমরা জানি ইন্ডাকশন মোটর চালু হবার সময় কারেন্ট স্বাভাবিক কারেন্টের চেয়ে বেশি নিয়ে থাকে যার পরিমাণ হয়ে থেকে ৫-৭ গুণ। প্রকৃতপক্ষে এটা আমরা জানি 🙂 কিন্তু সঠিক কি পরিমাণ কারেন্ট(নির্দিষ্ট মান) নিয়ে থাকে এটা জানিনা। কিন্তু এই কারেন্টের মান মোটরের গায়ে লেখা থাকে এবং সেটা কোড আকারে।

মোটরের গায়ে লেখা আছেঃ “CODE-E” অথবা “KVA CODE-D”। এবার চলুন দেখি কি করে এই কোড থেকে স্টার্টিং কারেন্টের মান বের করবো।

একটা সূত্র অনুসরণ করতে হবেঃ

সিঙ্গেল ফেজের জন্যঃ (code*horse power*1000)/supply voltage

থ্রি ফেজের জন্যঃ (code*horse power*577)/supply voltage।

মোটর নেমপ্লেট

নোটঃ হর্স পাওয়ারকে কোনভাবেই ৭৪৬ দ্বারা গুণ করে ওয়াটে রূপান্তরিত করবেন না কারন চার্টটি অনুসরন করুন। স্টার্টিং কারেন্টের মিনিমাম ও ম্যাক্সিমাম বের করার জন্য মাঝখানের কলামের দুটি মান ব্যবহার করবেন। মোটরের প্রয়োগকৃত ভোল্টেজের প্রভাব রয়েছে এখানে।

মোটরের নেমপ্লেটে “DUTY-CONT” লেখা থাকে, এর দ্বারা কি বুঝায়?

DUTY-CONT: Duty Continuous অর্থাৎ এই মোটরটি একটানা ব্যবহার উপযোগী। ইন্ডাস্ট্রিতে বেশিরভাগ মোটরে এই ফিচার টা থাকে। তবে যেসকল মোটর একটানা ব্যবহার উপযোগী না সেগুলোতে মিনিট লেখা থাকে মানে কত মিনিট একটানা চালানো যাবে। ক্রেনে এই মোটর ব্যবহার করা হয়।

মোটর নেমপ্লেট “AMB-40’C” বা এম্বিয়েন্ট টেম্পারেচার দ্বারা কি বুঝায়?

AMB এর মানে Ambient যার বাংলা অর্থ পারিপার্শ্বিক। এটা দ্বারা মূলত মোটরের পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রা সর্বোচ্চ কত হতে পারবে ও কত তাপমাত্রায় মোটর নিরাপদে কাজ করতে পারবে তা বুঝানো হয়।

আমরা জানি যে, মোটর চলার সময় অনেক হিট জেনারেট হয় কোর ও কপার লসের কারনে। এই দুই ধরনের তাপ আশেপাশে বাতাসে ছড়িয়ে পরে।

এক্ষেত্রে মোটরের আশেপাশে বাতাসে তাপমাত্রা  খুব বেশি হলে বাতাস খুব বেশি তাপ গ্রহন করতে পারে না ফলে মোটরটি তুলনামূলক ভাবে গরম হবে এবং এর প্রভাব পরবে মোটরের ইন্সুলেশন লাইফের উপর।

দীর্ঘদিন মোটর থেকে ভালো সার্ভিস পেতে চাইলে এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। মোটর নেমপ্লেট এভাবে লেখা থাকে “AMB-40’C”

মোটরের নেমপ্লেটে “FRAM-143T” লেখা থাকে, এটা দ্বারা কি বুঝায়?

অনেক সময় মোটর নেমপ্লেট এইভাবে লেখা থাকে “FRAM-143T”. প্রথম দুটি সংখ্যা দ্বারা বুঝায় যে মোটরটি সমতলে বসালে সমতল থেকে মোটরের শ্যাফটের কেন্দ্রবিন্দু পর্যন্ত কত দূরত্ব। এই দূরত্ব বের করতে চাইলে দুটি সংখ্যাকে ৪ দিয়ে ভাগ করতে হবে এবং এই মান আসবে ইঞ্চিতে অর্থাৎ ১৪/৪=৩.৫ ইঞ্চি।

তৃতীয় সংখ্যা(৩) দ্বারা মোটরের বেজে থাকা নাট-বোল্ট লাগানোর জন্য যে হোল থাকে সেই হোলের মধ্যবর্তী দূরত্ব তবে এই সংখ্যাটি দূরত্বের কোনও মান প্রকাশ করে না। সাধারনভাবে বলা যায় এই সংখ্যাটি যত বেশী হয় মোটর দৈর্ঘ্য তত লম্বা হয়।

১ হর্স পাওয়ার বা তার চেয়ে নিচের মোটরগুলোতে ফ্রেম সাইজ প্রকাশ কর হয় দুই অক্ষর দিয়ে যেমনঃ FRAM-58. এখানে দুটি সংখ্যা দ্বারা বুঝায় মোটরটি সমতলে বসলে সেই সমতল থেকে মোটরের শ্যাফট এর কেন্দ্রবিন্দু পর্যন্ত দূরত্ব কত।

তবে এই দূরত্ব বের করতে হলে ঐ সংখ্যাকে ১৬ দিয়ে ভাগ করে নিতে হবে অর্থাৎ ৫৬/১৬=৩.৫ইঞ্চি।

মোটরের নেমপ্লেটে Altitude দ্বারা কি বুঝায়?

Altitude এর অর্থ সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে কোন স্থানের উচ্চতা। এই বিষয়টা যদিও খুব একটা দেয়া থাকে না তবে এটার উপরেও ভালো প্রভাব ফেলতে পারে। কোন মোটরের গায়ে যদি উল্লেখ করা থাকে কত উচ্চতায় পর্যন্ত ফুল লোডে চালানো যাবে এক্ষেত্রে বেশি উচ্চতায় মোটর চালাতে গেলে মোটরটি তার ফুল লোড থেকে কম লোডে চালাতে হবে যাতে মোটরের ভিতরে তৈরি হওয়া তাপ বেশি না হয় যা এই উচ্চতার কম ঘনত্বের বাতাস সরিয়ে নিতে না পারে।

অথবা এর একভাগ মোটরটি ফুল লোডে চালানো যেতে পারে আর সেটা হচ্ছে বিশেষ কুলিং সিস্টেম এর মাধ্যমে যাতে করে মোটরে উৎপন্ন তাপ স্বাভাবিক উচ্চতায় চালানো অবস্থায় মোটরে উদ্ভব তাপ থেকে বেশি না হয়।

মোটর নেমপ্লেট পাওয়ার ফ্যাক্টর দ্বারা কি বুঝায়?

মোটর নেমপ্লেট যে পাওয়ার ফ্যাক্টর দেওয়া থাকে তা সাধারণত ফুল লোড পাওয়ার ফ্যাক্টর। পাওয়ার ফ্যাক্টর নিয়ে বিস্তারিত আমরা পূর্বে আলোচনা করেছি।

পাওয়ার ফ্যাক্টর নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ আমরা চেষ্টা করেছি মোটরের নেমপ্লেটে যা থাকে তার বেশিরভাগ কাভার করতে, এরপরেও অনেক অংশ হয়তো বাদ পরে যাবে।

বন্ধু, আজ এই পর্যন্ত। ভালো লাগলে শেয়ার করবেন। যেকোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY