এল ই ডি বা লাইট ইমিটিং ডায়োড খুঁটিনাটি বিস্তারিত আলোচনা

0
370
লাইট ইমিটিং ডায়োড

ইলেকট্রনিক্স বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীরা বা ইলেকট্রনিক্স নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের কাছে লাইট ইমিটিং ডায়োড এল ই ডি নামে পরিচিত। এই লেখাটি হবিস্টদের এল ই ডি সম্পর্কে ভালো একটা ধারণা দিবে বলে আশা করছি। এই লেখাতে যে যে বিষয়গুলো থাকবেঃ

  1. এল ই ডি কাকে বলে বা পরিচিত?
  2. এল ই ডি প্রতীক।
  3. এল ই ডি গঠন।
  4. এল ই ডি কার্যপ্রণালী।
  5. সার্কিটে এল ই ডি প্রয়োগ।
  6. এল ই ডি ব্যবহার করা হয় যেখানে।
  7. এল ই ডি ব্যবহারে সুবিধা ও অসুবিধা।
  8. এল ই ডি ব্যবহারের সতর্কতা।

এল ই ডি কাকে বলে বা পরিচিত?

এল ই ডি পূর্ণ নাম হলো লাইট ইমিটিং ডায়োড। এটি একটি বিশেষ ধরনের ডিভাইস যার মধ্য দিয়ে কারেন্ট প্রবাহিত হলে আলো নির্গত হয়। এটি মূলত ফরওয়ার্ড বায়াসে কাজ কারে থাকে।

এই ধরণের ডায়োড ফরওয়ার্ড বায়াসে রেখে প্রয়োজনীয় ভোল্টেজ প্রধান করলেই কাজ করে থাকে। এর মধ্য দিয়ে ভোল্টেজের মান বাড়ালে আলোর তীব্রতা বেড়ে যায় কিন্তু তাই বলে বেশি ভোল্টেজ বাড়ানো যাবে না। এতে করে এটি গরম হয়ে নষ্ট হয়ে যাবে।

ডায়োড সম্বন্ধে বিস্তারিত পড়ুন

এই ধরণের ডায়োড মূলত ১ থেকে ২.৫ ভোল্টে কাজ করে থাকে। লাইট ইমিটিং ডায়োড থেকে বিভিন্ন ধরণের আলো পাওয়া যায়ঃ লাল, হলুদ, সবুজ ইত্যাদি। এগুলো দামে অনেক সস্তা এবং সহজেই পাওয়া যায়। ইলেকট্রনিক্স সার্কিটে এর ব্যবহার ব্যাপক।

এল ই ডি প্রতীক

লাইট ইমিটিং ডায়োড

এল ই ডি গঠন

এল ই ডি বা লাইট ইমিটিং ডায়োডের দুইটি পা থাকে। এর একটি হলো এনোড বা পজিটিভ এবং অপরটি হলো ক্যাথোড বা নেগেটিভ। এর এনোড প্রান্ত বা পজেটিভ প্রান্তের পা টি অপর প্রান্ত হতে লম্বায় বড় হয়ে থাকে।

এটি বিশেষ ধরণের সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইস দ্বারা তৈরি হয়ে থাকে যেমনঃ গ্যালিয়াম, ফসফরাস, আর্সেনিক ইত্যাদির তৈরি। লাইট ইমিটিং ডায়োড

এল ই ডি প্রধান অংশ মূলত একটি সেমিকন্ডাক্টর চিপ। এটি পি এন জাংশনকে মূলত ধারণ করে থাকে। চিত্রে দেখানো হয়েছে এনভিল যেখানে এই চিপটিকে বসানো হয়। রেফ্লেক্টিভ ক্যাভিটি আলোর বিচ্ছুরন ঘটায় যা এনভিলের উপরের অংশ অবস্থান করে থাকে। রেফ্লেক্টিভ ক্যাভিটির মাধ্যমে আলোকের বিচ্ছুরণ প্রতিফলনের মাধ্যমে একমুখী করা যায়।

সেমিকন্ডাক্টর চীপের পি টাইপ মেটাল কন্টাক্ট এবং পোস্টের মাঝে সুক্ষ ধাতব তার দিয়ে সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে যেন এনোডে প্রয়োগকৃত ভোল্টেজ ডায়োডের পি টাইপ সেমিকন্ডাক্টরে প্রয়োগ হতে পারে।

পি এন জাংশন নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন

অপরপাশে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, এন টাইপ পাশে হতে মেটাল কন্ডাকটরের মাধ্যমে এনভিলবের সাথে ভিতরে সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে যাতে ক্যাথোডে প্রযুক্ত ভোল্টেজ এন টাইপ সেমিকন্ডাক্টরে প্রয়োগ হতে পারে। এবার পুরো ব্যবস্থা কে স্বচ্ছ শক্ত প্লাস্টিক দ্বারা আবরন করা হয়।

ইনভিলবের সাথে একটি টার্মিনাল বের করা হয় যাকে ক্যাথোড বলে এবং পোস্ট থেকে একটি টার্মিনাল বের করা হয় যাকে এনোড বলে।

এল ই ডি কার্যপ্রণালী

লাইট ইমিটিং ডায়োড

আমরা গঠন থেকে জেনেছি এল ই ডি মূলত ফরওয়ার্ড বায়াসে কাজ করে থাকে। পি টাইপ সেমিকন্ডাকটর মেজরিটি কেরিয়ার হোল এবং এন টাইপে মেজরিটি কেরিয়ার ইলেকট্রন থাকে।

যখন লাইট ইমিটিং ডায়োড কে ফরওয়ার্ড বায়াস প্রধান কর হয় তখন এন টাইপ সেমিকন্ডাক্টরের ফ্রি ইলেকট্রন সমূহ ডিসি সোর্স হতে বৈদ্যুতিক শক্তি লাভ করে এবং তা ব্যালেন্স ব্যান্ড থেকে কন্ডাকশন ব্যান্ডে স্থানান্তরিত হয় এবং বৈদ্যুতিক চাপের প্রভাবে জাংশনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পি টাইপে যায়

পি টাইপে মেজরিটি কেরিয়ারের হোল সমূহ ভ্যালেন্স ব্যান্ডে অবস্থান করে থাকে। আগত ইলেকট্রন সমূহ কন্ডাকশন ব্যান্ড হতে ভ্যালেন্স ব্যান্ডে যায় এবং হোল সমূহের সাথে মিলিত হয়।

এর ফলে ইলেকট্রন হোল রিকম্বিনেশন ঘটে এবং একই সাথে মিলিত হবার সময় ইলেকট্রনসমূহ তাদের অর্জিত শক্তিকে ফোটন আকারে বিকিরণ করে থাকে। এভাবে মূলত পি-এন জাংশন একটি আলোক উৎসে পরিণত হয়ে থাকে।

এল ই ডি সার্কিটে প্রয়োগ

লাইট ইমিটিং ডায়োড সার্কিটে লাগানোর সময় এর পজেটিভ প্রান্ত সার্কিটের পজেটিভ প্রান্তের সাথে এবং নেগেটিভ প্রান্ত সার্কিটের নেগেটিভ বা গ্রাউন্ড প্রান্তের সাথে সংযুক্ত দিতে হবে। তবে হ্যা, এর সাথে রেজিস্টর লাগিয়ে নিতে হবে।

লাইট ইমিটিং ডায়োড

উল্টো  করে কানেকশন দিলে এল ডি আর কোন কাজ করবে না। বাজারে বিভিন্ন ধরণের এল ডি আর পাওয়া যায়। খুব কম আলো থেকে অনেক বেশি আলো দিতে সক্ষম শক্তিশালী এল ই ডি ও এখন কম দামে পাওয়া যায়।

এল ই ডি ব্যবহার করা হয় যেখানে

  • বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স মিটারে এল ই ডি ব্যবহার করা হয়।
  • বিভিন্ন ডিজিটাল মিটারে
  • অডিও সিস্টেমে
  • অডিও এনালাইজারে
  • মনিটরের ব্যাকলাইট হিসেবে
  • বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসে ইন্ডিকেটর হিসেবে
  • সেভেন সেগমেন্ট ডিসপ্লেতে
  • রিমোট কন্ট্রোল ট্রান্সমিটার বা রিসিভারে
  • বিভিন্ন আলফা নিউমেরিক ডিসপ্লে তে।

 লাইট ইমিটিং ডায়োড ব্যবহারে সুবিধা ও অসুবিধা

সুবিধা
  • এর পাওয়ার খরচ অনেক কম হয়ে থাকে।
  •  লাইট ইমিটিং ডায়োড আকারে ছোট এবং ওজনে হালকা হয়ে থাকে।
  • অল্প বিদ্যুৎ খরচ হয় এবং আধুনিক এল ই ডি লাইটে কম এনার্জি খরচ করে বেশি আলো পাওয়া যায়।
  • খুব বেশি হিট জেনারেট করে না
  • এটি একটি দীর্ঘজীবি ডিভাইস
অসুবিধা
  • এটার ফরওয়ার্ড রেজিস্ট্যান্স বেশি যার কারনে রেক্টিফায়ার হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।

এল ই ডি ব্যবহারের সতর্কতা

  • এল ই ডি অবশ্যই সঠিক পোলারিটিতে লাগাতে হবে অর্থাৎ এনোডের সাথে সোর্সের পজেটিভ এবং ক্যাথোডের সাথে সোর্সের গ্রাউন্ড বা নেগেটিভ লাগাতে হবে।
  • সঠিক ভোল্টেজে লাগাতে হবে। কম বা বেশি হওয়া যাবে না।
  • সোল্ডারিং করার ক্ষেত্রে যাতে করে বেশি তাপ না দেওয়া হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে।

ডায়োড সম্বন্ধে বিস্তারিত পড়ুন

এই সকল বিষয় লক্ষ্য না রাখলে লাইট ইমিটিং ডায়োড নষ্ট হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে।

LEAVE A REPLY