Home ইলেকট্রনিক্স (Pro) অপ-এম্প (Op-Amp) নিয়ে খুব সহজ ভাষায় আলোচনা

অপ-এম্প (Op-Amp) নিয়ে খুব সহজ ভাষায় আলোচনা

0
1130

ইলেকট্রনিক্স কোর্স পড়ার সময় অপ-এম্প (Op-Amp) টপিকটি নিয়ে মাথাব্যথা হয়নি এমন ছাত্র খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এই টপিকটি নিয়ে অনেকেরই ব্যাসিক কন্সেপ্ট ক্লিয়ার থাকেনা। আমাকে অনেকেই অনুরোধ করেছেন যে, ইলেকট্রনিক্সের অপ-এম্প টপিকটা নিয়ে যেন কিছু লিখি। তাই আজ অপ-এম্প নিয়ে খুব সহজভাবে একটি আর্টিকেল আপনাদের নিকট উপস্থাপন করতে চাই। আশা করি ভাল লাগবে।

অপ-এম্প (Op-Amp) নিয়ে খুব সহজ ভাষায় আলোচনা

শুরুতেই একটি আদর্শ অপ-এম্প এর বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করব। চলুন দেখে নেয়া যাকঃ

  • কমন মোড রিজেকশন রেশিও ইনফাইনাইট
  • ইনফাইনাইট আউটপুট ভোল্টেজ
  • ইনফাইনাইট ভোল্টেজ গেইন
  • ইনফাইনাইট ইনপুট ইম্পিড্যান্স
  • জিরো আউটপুট ইম্পিড্যান্স
  • জিরো ইনপুট ভোল্টেজ
  • ইনফাইনাইট পাওয়ার সাপ্লাই রিজেকশন রেশিও
  • ইনফিনিটি স্লিউ রেট
  • জিরো ফেজ শিফট সহ ইনফিনিটি ব্যান্ডউইথ
  • আউটপুট ইনফাইনাইট কারেন্ট
  • জিরো নয়েজ
  • ইনফাইনাইট ওপেন লুপ গেইন
  • ইনফাইনাইট ভোল্টেজ এমপ্লিফিকেশন
  • লো ইনপুট কারেন্ট

Op-Amp বা অপারেশনাল এমপ্লিফায়ার হল একটি খুব জনপ্রিয় এমপ্লিফায়ার যা অনেকগুলো দরকারি অ্যাপ্লিকেশনের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণত ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট বা আই সি আকারে থাকে। অপারেশনাল এমপ্লিফায়ার গাণিতিক ক্রিয়াকলাপ যেমন যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ, ডিফারেন্সিয়েশন, ইন্টিগ্রেশন ইত্যাদি সম্পাদন করতে পারে। মূলত, এটি একটি ডিফারেন্সিয়াল ভোল্টেজ এমপ্লিফায়ারের মতো কাজ করে। একটি আদর্শ অপ-এম্প এবং একটি প্র্যাক্টিকাল অপারেশনাল এমপ্লিফায়ারের মধ্যে বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য বিদ্যমান। কারণ অভ্যন্তরীণ পাওয়ার লস এবং অন্যান্য ফ্যাক্টরের কারণে বৈশিষ্ট্যগুলো ভিন্ন হয়।

ইনপুট ইম্পিড্যান্স

একটি আদর্শ op-amp এর সবচেয়ে সাধারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল উচ্চ ইনপুট ইম্পিড্যান্স। উচ্চ ইনপুট ইম্পিড্যান্স বলতে বোঝায় যে, অপারেশনাল অ্যামপ্লিফায়ার কোনো কারেন্ট (আদর্শভাবে) কনজিউম করে না বা খুব কম কারেন্ট (ব্যবহারিকভাবে) গ্রাস করে না। যদি ইনপুট ইম্পিড্যান্স কম হয় তবে এটি হাই রেটিং কারেন্ট কনজিউম করবে এবং ইনপুট সার্কিটে একটি বাধা সৃষ্টি করবে। তাই উচ্চ ইনপুট ইম্পিডেন্স থাকা ভালো। তাই op-amp উচ্চ ইনপুট ইম্পিডেন্স দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে।

আউটপুট ইম্পিড্যান্স

আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল শূন্য বা কম আউটপুট ইম্পিড্যান্স। যদিও এটি কার্যত সম্ভব নয়। আউটপুট ইম্পিড্যান্স কম হলে আউটপুট সার্কিট সর্বাধিক লোড কারেন্টের সাথে কাজ করবে। কম ইম্পিডেন্সের অন্য সুবিধা হল, ভোল্টেজ ড্রপ যত কম হবে তাই সর্বোচ্চ ভোল্টেজ Op-Amp থেকে এক্সটার্নাল লোডে স্থানান্তরিত হবে। সর্বাধিক ভোল্টেজ স্থানান্তরিত হলে পুরো সার্কিটের কার্যকারিতা বাড়ানো হবে। যখন op-amp লিনিয়ার রিজিওনে কাজ করে তখন ইনপুট ভোল্টেজ এবং আউটপুট ভোল্টেজ লিনিয়ারলি পরিবর্তিত হয়। তাই লিনিয়ার অঞ্চলে অপ-এম্প সর্বোচ্চ আউটপুট দেয়।

কমন মোড রিজেকশন রেশিও

একটি টার্ম নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন যেটি হল কমন মোড রিজেকশন রেশিও। অনেকের মনে প্রশ্ন হতে পারে এই টার্ম দিয়ে কি বোঝায়?

অপ-এম্প
অপ-এম্প

এটি একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। অপ-এম্পের সিম্বলের দিকে ভাল করে লক্ষ্য করলে দেখবেন পজিটিভ এবং নেগেটিভ দুটি চিহ্ন বিদ্যমান। একটি হল নন ইনভার্টিং ইনপুট আরেকটি হল ইনভার্টিং ইনপুট। কমন মোড রিজেকশন রেশিও নির্দেশ করে যে, অপারেশনাল অ্যামপ্লিফায়ার দুটি একই ধরনের ইনপুট সিগন্যালকে প্রত্যাখ্যান করবে। অপ-এম্পের ইনপুটে প্রয়োগ করা পজিটিভ এবং নেগেটিভ ভোল্টেজের মধ্যে পার্থক্য থাকলেই এটি ফিডব্যাক জানায়।

আরো কিছু আর্টিকেল

ইলেকট্রনিক্সে Vcc, Vss, Vdd, Vee দিয়ে কি বোঝায়?

গল্পে গল্পে ইলেকট্রনিক্স ফ্যামিলির পরিচিতি

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

error: Content is protected !!