Home ইলেকট্রিক্যাল ইলেকট্রনিক ট্রান্সফরমার নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা

ইলেকট্রনিক ট্রান্সফরমার নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা

0
744

আমরা সাধারণত ইলেকট্রিক্যাল ট্রান্সফরমার দেখতেই অভ্যস্ত। কিন্তু ইলেকট্রিক্যাল ট্রান্সফরমারের পাশাপাশি রয়েছে ইলেকট্রনিক ট্রান্সফরমারও। বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসে এ ধরনের ট্রান্সফরমার পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। তাই আজ সংক্ষিপ্তভাবে ইলেকট্রনিক ট্রান্সফরমার নিয়ে বর্ণনা করব।

ইলেকট্রনিক ট্রান্সফরমার কি?

ইলেকট্রনিক ট্রান্সফরমার হল একটি প্যাসিভ ইলেকট্রনিক ডিভাইস যা লো পাওয়ার অ্যাপ্লিকেশন যেমন ভোল্টেজ স্টেপ-আপ বা ভোল্টেজ স্টেপ ডাউন, আইসোলেটিং সার্কিট, ইম্পিডেন্স ম্যাচিং ইত্যাদির জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। ইলেকট্রনিক ট্রান্সফরমারও একই নীতিতে কাজ করে যেভাবে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার কাজ করে। পার্থক্য হল ইলেকট্রনিক ট্রান্সফরমার কম ভোল্টেজ এবং কম কারেন্ট নিয়ে কাজ করে। কিছু ইলেকট্রনিক ট্রান্সফরমার কিলো হার্জ (kHz), মেগা হার্জ (MHz) এর মতো উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি দিয়ে কাজ করার জন্য ডিজাইন করা হয়ে থাকে।

ইলেকট্রনিক ট্রান্সফরমারের কিছু উদাহরণ নিচে উল্লেখ করা হলঃ

  • ফ্লাইব্যাক ট্রান্সফরমার
  • লাইন আউটপুট ট্রান্সফরমার
  • হাই-ফ্রিকোয়েন্সি স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার
  • ইম্পিডেন্স ম্যাচিং ট্রান্সফরমার
  • অডিও ট্রান্সফরমার পালস ট্রান্সফরমার
  • সুইচ মোড ট্রান্সফরমার
  • রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি ট্রান্সফরমার ইত্যাদি।

ইলেকট্রনিক ট্রান্সফরমার ডিজাইন আকারে ছোট এবং ওজনে হালকা। এগুলো বিভিন্ন ভোল্টেজ লেভেলে ফ্রিকোয়েন্সি রেসপন্স বজায় রাখতে ব্যবহার করা যেতে পারে। তাছাড়াও নয়েজ সিগন্যাল দূর করা, পাওয়ার সাপ্লাই রেগুলেশন, পাওয়ার কনভার্টিং ইত্যাদি কাজেও ইলেকট্রনিক ট্রান্সফরমার ব্যবহৃত হতে পারে।

ইলেকট্রনিক ট্রান্সফরমার কিভাবে কাজ করে?

নরমাল স্টেপ ডাউন/আপ ট্রান্সফরমার

  • একটি স্টেপ আপ এবং স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইন্ডাকশন নীতিতে কাজ করে। যেমনটা সাধারণ পাওয়ার ট্রান্সফরমার কাজ করে থাকে।
  • একটি স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমারে দুটি উইন্ডিং থাকে – প্রাইমারি উইন্ডিং এবং সেকেন্ডারি উইন্ডিং।
  • প্রাইমারি উইন্ডিং এ সেকেন্ডারি উইন্ডিং এর চেয়ে বেশি টার্ন নেই।
  • প্রাইমারি উইন্ডিং ইনপুট পাওয়ার সাপ্লাইয়ের সাথে এবং সেকেন্ডারি ওয়াইন্ডিং লোডের সাথে কানেক্ট করতে হয়।
  • স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমারের ঠিক বিপরীত।
  • এর প্রাইমারি উইন্ডিং এ সেকেন্ডারি উইন্ডিং তুলনায় কম টার্ন রয়েছে। সুতরাং, এটি আউটপুটে প্রাইমারি উইন্ডিং-এ প্রয়োগ করা ইনপুট ভোল্টেজের চেয়ে হাই ভোল্টেজ প্রদান করবে।

আইসোলেশন ট্রান্সফরমার

  • আইসোলেশন ট্রান্সফরমার গতানুগতিক নরমাল ট্রান্সফরমার থেকে ভিন্ন প্রকৃতির।
  • আইসোলেশন ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি উইন্ডিং এ সমান সংখ্যক টার্ন থাকে।
  • তাই এটি ভোল্টেজ স্টেপ ডাউন বা আপ করার জন্য ব্যবহৃত হয়না।
  • এই ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি সাইডের মধ্যে কোন ইলেকট্রিক্যাল সংযোগ থাকেনা।
  • উভয় সাইড ইলেকট্রিক্যালি আইসোলেটেড থাকে।

ফ্লাইব্যাক ট্রান্সফরমার

  • ফ্লাইব্যাক ট্রান্সফরমার এক ধরনের স্পেশাল টাইপ ইলেকট্রনিক ট্রান্সফরমার যা বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
  • এটি ভোল্টেজ স্টেপ আপ করার কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
  • এটি ১২ ভোল্ট ভোল্টেজকে ২০,০০০ ভোল্টে রুপান্তরিত করতে পারে।
  • এটির প্রাইমারি সাইড ট্রানজিস্টর বেইজ ইলেকট্রনিক সার্কিটের সাথে সংযুক্ত থাকে যা পাওয়ার সাপ্লাই সুইচিং করতে সাহায্য করে।
  • আর লোড সাইডে ডায়োড সংযুক্ত থাকে যা রিভার্স কারেন্ট এড়াতে সাহায্য করে।

আরো কিছু আর্টিকেল পড়ে নিন

কারেন্ট ট্রান্সফরমারের ৪টি টেস্ট যা জেনে রাখা জরুরি

অটো-ট্রান্সফরমার এর গঠন ও কার্যনীতিসহ বিস্তারিত আলোচনা

ট্রান্সফরমারের তেলে পানির উপস্থিতি কিভাবে সনাক্ত করা হয়?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

error: Content is protected !!