Home টেলিকমিউনিকেশন (Pro) রেলওয়ে সিগন্যালিং সিস্টেম কিভাবে কাজ করে? | Bangladesh Railway

রেলওয়ে সিগন্যালিং সিস্টেম কিভাবে কাজ করে? | Bangladesh Railway

0
1264

আমজাদের কলেজে গ্রীষ্মকালীন ছুটি পড়ে গেছে। আমজাদ তাই মনস্থির করল এই গরমে নানার বাড়ি গিয়ে আম, জাম, লিচু খাবে। তাই আমজাদ পরের দিনেরই ট্রেনের টিকেট কেটে ফেলল। খুব ভোরের ট্রেনেই রওনা হল আমজাদ। ট্রেন চলছে আর সাথে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। একটি স্টেশনের মধ্য দিয়ে ট্রেন যাবার সময় আমজাদ লক্ষ্য করল রেললাইনের পাশে লাল রং এর সিগন্যাল লাইট জ্বলছে। তখন আমজাদের মনে কৌতূহল হল কিভাবে এই রেলওয়ে সিগন্যালিং সিস্টেম কাজ করে? তখন সে কৌতূহলবশত ইন্টারনেটে ব্যাপারটি সার্চ দিল এবং জানতে পারল। কিন্তু শুধু আমজাদ জানলেই হবেনা সেই সাথে আমরাও জানব এই মজার বিষয়টি।

রেলওয়ে সিগন্যালিং সিস্টেম কিভাবে কাজ করে?

রেলওয়ে স্টেশনগুলোর একটি সুনির্দিষ্ট কাভারেজ থাকে। এই রেল ট্র‍্যাক কাভারেজের এন্ট্রি এবং এক্সিট পয়েন্টে একটি ট্রান্সমিটার এবং একটি রিসিভার কয়েল অর্থাৎ মোট দুই জোড়া কয়েল থাকে। এই TX এবং RX কয়েলের সংযোগ থাকে জাংশন বা কন্ট্রোল বক্সের সাথে।

এখন জেনে নেয়া যাক এই জাংশন বক্সে কি কি ডিভাইস থাকে?

জাংশন বক্সে নিম্নলিখিত ডিভাইস গুলো থাকে। যথাঃ

  • সিঙ্গেল সেকশন এক্সেল কাউন্টার
  • ভাইটাল রিলে
  • পাইলট রিলে

সিঙ্গেল সেকশন এক্সেল কাউন্টারের কাজ কি?

এই সিঙ্গেল সেকশন এক্সেল কাউন্টার ট্রেনের এক্সেলের (রেলের চাকার মধ্যে সংযোগকারী মেটাল রড) স্পীড সিগন্যালকে ডিজিটাল সিগন্যালে রুপায়িত করে এবং লজিক (1/0) অনুসারে পাইলট এবং ভাইটাল রিলেকে এক্টিভেইট করতে সাহায্য করে। এই মহাশয়ের আটটি ইলেকট্রনিক মডিউল বা কার্ড রয়েছে যেগুলো লজিক ফাংশন, মডুলেশন, ডি-মডুলেশন বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত।

 সিংগেল সেকশন এক্সেল কাউন্টার
সিংগেল সেকশন এক্সেল কাউন্টার

সিগন্যালিং ফাংশন

ট্রান্সমিটার এবং রিসিভার কয়েল
ট্রান্সমিটার এবং রিসিভার কয়েল
  • ধরলাম, এন্ট্রি পয়েন্টে রাখা ট্রান্সমিটার কয়েল A এবং রিসিভার কয়েল B। ট্রেন যখন স্টেশনের এন্ট্রি পয়েন্টে ঢুকবে তখন ট্রান্সমিটার কয়েল B এর সাথে সংযুক্ত Dependent motion সেন্সর চাকার গতি সেন্স করে রিসিভারের মাধ্যমে জাংশন বক্সে থাকা সিঙ্গেল সেকশন এক্সেল কাউন্টারে সিগন্যাল পাঠায়।
  • তখন এক্সেল কাউন্টার সেই সিগন্যালকে ডিজিটাল সিগন্যালে রুপায়িত করে।
  • যখন পাইলট রিলে লজিক 1 সেন্স করতে পারে তখনই পাইলট রিলে সার্কিটের সাথে সংযুক্ত লাল বাতিটি জ্বলে উঠে।
  • লাল বাতির সংকেত দিয়ে বুঝানো হয় যে, ট্রেন এখন স্টেশন অতিক্রম করছে।
  • এবার আসুন এক্সিট পয়েন্টে যে পয়েন্ট দিয়ে ট্রেন স্টেশন ক্রস করে যাবে।
  • সেখানেও উপরের ন্যায় দুটো কয়েল বসানো আছে। একই প্রক্রিয়ায় এক্সেলের গতি সেন্স করে জাংশন বক্সে এনালগ সিগন্যাল পাঠায় এবং এক্ষেত্রে ভাইটাল রিলে লজিক 1 পেলেই সবুজ বাতি জ্বলে উঠবে।
  • আর সবুজ বাতির অর্থ হল ট্রেন স্টেশন অতিক্রম করে চলে গেছে। এখন লাইন ক্লিয়ার। আর আশা করি সিস্টেমটিও আপনাদের কাছে ক্লিয়ার।
ভাইটাল এবং পাইলট রিলে
ভাইটাল এবং পাইলট রিলে

দেখতে দেখতে আমজাদের ট্রেনটিও তার নানার বাড়ি সংলগ্ন স্টেশনে এসে থামল। আমজাদ ট্রেন থেকে নামল এবং ট্রেনটি যাওয়ার আগ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে ছিল। আমজাদ লক্ষ্য করল, ট্রেনটি যখন পুরোপুরি স্টেশনের বাইরে চলে গেল এবং সাথে সাথে জ্বলে উঠল সবুজ বাতি মানে লাইন ক্লিয়ার। এই যাত্রায় একটি মজাদার টপিক জানা হল তার এবং সেই সাথে আমাদেরও।

আরো কিছু আর্টিকেল

মেট্রোরেল নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যা জেনে রাখা জরুরি | Dhaka Metro Rail

জাহাজ এবং উড়োজাহাজে কিভাবে আর্থিং করা হয়?

সাবমেরিন কিভাবে গভীর সমুদ্রের নীচে চলাচল করে?

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

error: Content is protected !!