ইনসুলেটর কি, উপাদান, বৈশিষ্ট্য ও প্রকারভেদ | Overhead Line Insulator

ইনসুলেটর – আমরা যারা বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার সাথে কম বেশি পরিচিত তারা অনেকেই জানি ওভারহেড লাইনে অনেক ধরনের ইনসুলেটর ব্যবহার করা হয়। এই ইনসুলেটরগুলো ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন লাইনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই লেখাতে আমরা ইনসুলেটর সম্বন্ধে বেশ কিছু বিষয় আলোচনা করব। যেমনঃ

  • ইনসুলেটর কি?
  • ইনসুলেটিং উপাদান
  • ইনসুলেটরের বৈশিষ্ট্য
  • ইনসুলেটরের প্রকারভেদ

ইনসুলেটর কি?

ইনসুলেটর হলো এক ধরনের অপরিবাহী বস্তু যা ওভারহেড লাইনের কন্ডাকটরকে ধরে রাখতে এবং পোল বা টাওয়ারের ক্রস আর্মসহ অন্যান্য ধাতব অংশ থেকে কন্ডাকটরকে বিচ্ছিন্ন রাখতে ব্যবহার করা হয়।

নিচের চিত্রে কিছু ইনসুলেটর দেখানো হলো-

ইনসুলেটর
ইনসুলেটর

বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে শুরু করে আমাদের বাসা বাড়ি বা অফিস পর্যন্ত বিদ্যুৎ পৌঁছাতে যতগুলো টাওয়ার, পোল বা খুঁটি ব্যবহার করা হয় প্রায় সবগুলোতেই বিভিন্ন ধরনের ইনসুলেটর ব্যবহার করা হয়। এসব লাইন ছাড়াও ট্রান্সফরমারসহ অনেক ইলেকট্রিক্যাল ইকুপমেন্টে ইনসুলেটর ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

মূলত এসব ইনসুলেটর কাজ হলো লাইনের কন্ডাকটর বা পরিবাহী তারগুলো যাতে একের সাথে অপরের বা আর্থের সংস্পর্শে আসতে না পারে সেজন্য ক্রস আর্ম ও পোল বা টাওয়ার থেকে আলাদা করে রাখা।

ইনসুলেটিং উপাদান (Insulating materials):

ইনসুলেটর তৈরি করতে যেসব উপাদান ব্যবহার করা হয় তাকে ইনসুলেটিং উপাদান বা Insulating materials বলে। সচরাচর ব্যবহৃত কয়েক ধরনের ইনসুলেটিং উপাদান হলোঃ

(ক) পাের্সিলিন বা চীনামাটি (Porcelain)
(খ) গ্লাস (Glass)
(গ) স্টিয়েটাইট (Steatite)
(ঘ) পাইরেক্স (Pyrex)

এসব উপাদানের মধ্যে চীনামাটির ইনসুলেটরই অধিক পরিমাণে ব্যবহার করা হয়।

ইনসুলেটরের বৈশিষ্ট্যঃ

সাধারণভাবে একটি ইনসুলেটরে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্য থাকা উচিত-

১. কন্ডাক্টর লোড, বাতাসের চাপ ইত্যাদি সহ্য করার জন্য উচ্চ যান্ত্রিক শক্তি সম্পন্ন হতে হবে।
২. আর্থ কারেন্ট লিকেজ এড়ানোর জন্য ইনসুলেটর পদার্থে হাই ইলেকট্রিক্যাল রেজিস্ট্যান্স (high electrical resistance) থাকতে হবে।
৩. ইনসুলেটরের উপাদান নিশ্ছিদ্র ও ভেজাল মূক্ত হওয়া উচিত, অন্যথায় এর কার্যকারিতা কমে যাবে।
৪. ফ্ল্যাশওভারে (flashover) খাঁচের (puncture) অনুপাত সঠিক রাখতে হবে।
৫. রিলেটিভ পারমিটিভিটি (Relative permitivity) উচ্চমানের হওয়া উচিত, এতে ডাই-ইলেকট্রিক শক্তি বেশি হয়।
৬. পাংচার ভােল্টেজ ও স্পার্ক ওভার ভােল্টেজের অনুপাত উচ্চমানের হওয়া উচিত।
৭. ইনসুলেটর তৈরির সময় সতর্ক থাকতে হবে যেন তাতে কোনাে গ্যাস বা তরল পদার্থ প্রবেশ করতে না পারে।
৮. এছাড়া তাপমাত্রা পরিবর্তনজনিত কারণে যেন এর কোনাে প্রতিক্রিয়া না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেও তৈরি করতে হবে।

ফ্ল্যাশ ওভারঃ ইন্সুলেটরের চারপাশে / ইন্সুলেটরের উপরিভাগে ইলেকট্রিক্যাল ডিসচার্জ হলো ফ্ল্যাশ ওভার। অর্থাৎ, আমরা অনেক সময় হঠাৎ করে ইন্সুলেটর চারপাশে আগুনের ঝলক দেখতে পাই এবং খুব দ্রুত ডিসচার্জ হয়ে যায়, এটাই মূলত ফ্ল্যাশ ওভার।

ইনসুলেটরের প্রকারভেদঃ

ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন লাইনে বিভিন্ন ধরনের ইনসুলেটর ব্যবহার করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইনসুলেটর হচ্ছেঃ

১। শ্যাকল বা রিল বা স্পুল ইনসুলেটর (Shackle or feel or spool insulator)
২। পিন ইনসুলেটর (Pin insulator)
৩। সাসপেনশন ইনসুলেটর (Suspension insulator)
৪। স্ট্রেইন ইনসুলেটর (Strain insulator)
৫। পােস্ট ইনসুলেটর (Post insulator)
৬। স্টে বা গাই ইনসুলেটর (Stay or Guy insulator)।

[প্রতিটি ইনসুলেটর সম্বন্ধে ব্লগে আলাদাভাবে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে]

অন্যান্য লেখাঃ

ইলেকট্রিক্যাল সাবস্টেশন সম্বন্ধে সহজ ভাষায় আলোচনা

লাইন সাপোর্ট কি, বৈশিষ্ট্য ও প্রকারভেদ

ওভারহেড লাইনের উপাদানসমূহ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here