ইলেকট্রিক্যাল ট্রেন কিভাবে কাজ করে | ইলেকট্রিক্যাল লোকোমোটিভ

0
210

রেলগাড়িতে চড়ে নিজের গ্রামে বেড়াতে যেতে কে না ভালবাসি? তবে রেলগাড়ি ডিজেল ইঞ্জিনচালিত সে কথা আমরা সকলেই জানি। বৃটিশ আমল থেকে ডিজেলের মাধ্যমেই রেলযাত্রা শুরু হয়। কিন্তু বৈদ্যুতিক প্রযুক্তির বদৌলতে আমরা ডিজেলের পাশাপাশি এখন ইলেকট্রিক্যাল লোকোমোটিভও লাভ করেছি।

ইলেকট্রিক্যাল ট্রেন
ইলেকট্রিক্যাল ট্রেন

বিদ্যুৎশক্তি ব্যবহার করেই ট্রেন চলছে অনায়সেই। আজ এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমি বৈদ্যুতিক ট্রেনের খুটিনাটি নিয়ে আলোচনা করব। চলুন আলোচনা শুরু করা যাক।

ইলেকট্রিক্যাল ট্রেন কি?

ইলেকট্রিক্যাল ট্রেন হল এক বিশেষ ধরনের ট্রেন যা লোকোমোটিভ ট্র‍্যাকশনের জন্য এক্সটার্নাল সোর্স বা থার্ড রেল থেকে বৈদ্যুতিক পাওয়ার গ্রহণ করে। এর স্ট্রাকচার ডিজেল ইঞ্জিনচালিত রেলের মত নয়। এটি সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ শক্তি নিয়ন্ত্রিত যা মোটরে হাই টর্ক সৃষ্টি করে ট্রেন চলতে সহায়তা করে।

ইলেকট্রিক লোকোমোটিভের ধরনঃ

সাধারণত তিন ধরনের ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ রয়েছে। যথাঃ

  • এসি (অল্টারনেটিং কারেন্ট)
  • ডিসি (ডাইরেক্ট কারেন্ট)
  • এসি/ডিসি (বাই-কারেন্ট)

ইলেকট্রিক্যাল ট্রেনের গঠন

ইলেকট্রিক ট্রেন এর গঠন
ইলেকট্রিক ট্রেন এর গঠন

বৈদ্যুতিক ট্রেন যেসমস্ত ডিভাইস নিয়ে গঠিত তার তালিকা নিম্নরুপঃ

  • রেক্টিফায়ার
  • ইনভার্টার
  • ট্রান্সফরমার
  • থাইরিস্টর
  • কম্প্রেসর

এই সমস্ত ডিভাইস একটি লোকেমোটিভ শেলে আবদ্ধ থাকে।

ইলেকট্রিক্যাল ট্রেন কিভাবে কাজ করে?

এবার আসা যাক ইন্টারেস্টিং পার্টে। এখন আমরা জানব এই বৈদ্যুতিক ট্রেন কিভাবে কাজ করে? বৈদ্যুতিক ট্রেনের ফাংশন আমি খুব সংক্ষিপ্তভাবে পয়েন্টাকারে তুলে ধরছিঃ

পেন্টোগ্রাফ
পেন্টোগ্রাফ
  • উপরের চিত্রে যে ডিভাইসটি লক্ষ্য করছেন, এটি হল পেন্টোগ্রাফ।
  • এই পেন্টোগ্রাফের কাজ হল ওভারহেড HT লাইন থেকে বৈদ্যুতিক পাওয়ার সংগ্রহ করা।
  • এই পেন্টোগ্রাফ কার্বন স্ট্রিপের তৈরি এবং এটি ওভারহেড লাইনের সাথে সংযুক্ত থাকে। সুযোগ হলে অন্য একটি ব্লগে এই পেন্টোগ্রাফ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
  • পেন্টোগ্রাফের সংগৃহীত পাওয়ার সার্কিট ব্রেকারে পৌছায়। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে রক্ষা পাওয়ার দরুণ এই সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করা হয়।
  • পেন্টোগ্রাফ সাধারণত সিংগেল ফেজ ২৬,০০০ ভোল্ট সংগ্রহ করে থাকে।
  • কিন্তু ইলেকট্রিক্যাল ট্রেন চলতে এত ভোল্টেজের দরকার হয়না। তাই একটি ট্রান্সফরমার ব্যবহার করে এই ভোল্টেজ কমিয়ে আনা হয়। উল্লেখ্য যে, একটি ইলেকট্রিক্যাল ট্রেন চলতে ৫-৭ হাজার হর্স পাওয়ার দরকার হয়।
  • অতঃপর এই এসি ভোল্টেজকে রেক্টিফায়ারের মাধ্যমে ডিসি করে নেয়া হয়।
  • আর যদি এসি লোকোমোটিভ হয় তাহলে ডিসিকে ইনভার্টারের সাহায্যে এসি করে নেয়া হয়।
  • তারপর বৈদ্যুতিক মোটর উপযুক্ত পাওয়ার পেলে প্রয়োজনীয় টর্ক সৃষ্টি করতে পারে।

ইলেকট্রিক্যাল ট্রেন নিয়ে আজকের আর্টিকেলটি কেমন লাগল তা কমেন্ট করে জানিয়ে দিন। না জানা বিভিন্ন প্রযুক্তি সংক্রান্ত আর্টিকেল নিয়ে গল্প করার জন্য ভোল্টেজ ল্যাব সদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।

আরো কিছু আর্টিকেল পড়ুন

মেট্রোরেল নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যা জেনে রাখা জরুরি

রেলওয়ে সিগন্যালিং সিস্টেম কিভাবে কাজ করে? | Bangladesh Railway

ওভারহেড পাওয়ার লাইন স্থাপনের ক্ষেত্রে পথ নির্বাচনে প্রধান বিবেচ্য বিষয়সমূহ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here