সর্বোত্তম প্রাইম মুভারঃ ডিজেল ইঞ্জিন প্রাইম মুভার | ডিজেল প্রাইম মুভার সুবিধা

ডিজেল ইঞ্জিন প্রাইম মুভারের সুবিধা সমূহ

প্রাইম মুভারের আলোচনা হতে আমরা জেনেছিলাম যে, বিভিন্ন প্রাইম মুভারের মধ্যে ডিজেল ইঞ্জিন প্রাইম মুভার হচ্ছে সবচেয়ে উত্তম প্রাইম মুভার।

প্রাইম মুভার সম্বন্ধে পড়ুন

আজকের আলোচনায় আমরা জানব কেনো এই ডিজেল ইঞ্জিনকে একটি উত্তম প্রাইম মুভার বলা হয়। মুলত নিচের কয়েকটি দিক বিবেচনায় ডিজেল ইঞ্জিনকে একটি উত্তম প্রাইম মুভার হিসেবে গণ্য করা হয়ঃ

  1. সুবিধাজনক উৎপাদন ক্ষমতা।
  2. সহজে স্থানান্তরযোগ্য।
  3. অল্প সময়ে সহজে চালু ও বন্ধ করার সুবিধা।
  4. খুচরা যন্ত্রাংশ কম।
  5. স্থাপন এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কম।
  6. শক্তিধর ইঞ্জিন হিসাবে।

উপরোক্ত বিষয় সমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলোঃ

1. সুবিধাজনক উৎপাদন ক্ষমতা:

ডিজেল ইঞ্জিন প্রাইম মুভার দ্বারা যেখানে যতটুকু বিদ্যুৎ চাহিদা প্রয়োজন হয় সেখানে ঠিক ততো ক্ষমতা সম্পন্ন ইউনিট স্থাপন করা যায়। যার ফলে কোন অযথা অপচয় হয় না। 

ডিজেল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে ৭০ কিলোওয়াট হতে ৩.৫ মেগা ওয়াট পর্যন্ত ক্ষমতা সম্পন্ন ইউনিট সচরাচর দেখা যায়। 

2. সহজে স্থানান্তরযোগ্য:

মরুভূমি অথবা প্রত্যন্ত অঞ্চল যেখানে কোনো বৈদ্যুতিক ওভারহেড লাইন সংযোগ নেই, প্রয়োজনবশত সেই অঞ্চল দ্রুত বিদ্যুতায়িত করার প্রয়োজন দেখা দিলে সেখানে সঠিক ক্ষমতা সম্পন্ন ডিজেল ইউনিট সহজেই স্থানান্তর করা যায়।

কাজ মিটে গেলে বা একান্তই প্রয়োজন না হলে অথবা সেখানে ওভারহেড লাইন নির্মিত হয়ে গেলে নির্দিষ্ট সময়ে উক্ত ইউনিট আবার পূর্বের অবস্থানে সহজেই ফেরৎ পাঠানো যায়। উক্ত সুবিধার জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চলের কয়লা এবং তেল খনিতে সাধারণত ডিজেল ইউনিট বেশি ব্যবহার করা হয়।

3. অল্প সময়ে সহজে চালু ও বন্ধ করার সুবিধা:

ডিজেল ইঞ্জিনকে খুব সহজে অল্প সময়ে চালু বা বন্ধ করা যায়। কোন জরুরি এলাকা যেমনঃ হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্যান্টনমেন্ট ইত্যাদি স্থানে হঠাৎ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে সে সব স্থানে অতি অল্প সময়ের মধ্যে ডিজেল ইউনিট চালু করে জরুরিভাবে বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো যায়। বিদ্যুৎ চাহিদা মিটে গেলে তা আবার অল্প সময়ের মধ্যে বন্ধ করে রাখা যায়।

এই সুবিধার জন্য পিকলোড বহন করার উদ্দেশ্যে বাষ্প বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও অন্যান্য বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে প্রয়োজন অনুসারে এক বা একাধিক ডিজেল ইউনিট স্থাপন করা হয়।

4. খুচরা যন্ত্রাংশ কম:

ডিজেল ইউনিটে ব্যবহৃত আনুষাঙ্গিক যন্ত্রপাতি এবং খুচরা যন্ত্রাংশের সংখ্যা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র অথবা অন্যান্য বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের তুলনায় কম, দামে সস্তা এবং ওজনে কিছুটা হালকা হওয়ার ফলে যে কোনো স্থানে বহন করা যায়। এর পরিবহণে খুব একটা খরচ ও ঝামেলা হয় না।

উল্লিখিত কারণে ডিজেল ইঞ্জিন শক্তি উৎপাদন কেন্দ্রে এক বা একাধিক ইউনিট স্থাপন করে বাড়তি বিদ্যুৎ চাহিদা মিটানো যায়।

5. স্থাপন এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কম:

ডিজেল ইঞ্জিনের খুচরা যন্ত্রাংশ কম হওয়ায় তা স্থাপন করতে অল্প জায়গার প্রয়োজন হয়। এতে জ্বালানি, পিচ্ছিলকরণ তেল পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচও কম হয়।

6. শক্তিধর ইঞ্জিন হিসাবে:

ডিজেল ইঞ্জিনের সঙ্কোচন অনুপাত ১৫:১ হতে ১১:১। তাই এই ইঞ্জিন পেট্রোল, কোরোসিন, গ্যাস, বাষ্প ইত্যাদি ব্যবহৃত ইঞ্জিন অপেক্ষা বেশি শক্তিধর। মূলত এ কারণেই আজকাল অধিকাংশ বাস ও ট্রাকে বা অন্তর্দাহ ইঞ্জিন চালিত শক্তি উৎপাদন কেন্দ্রে প্রাইম মুভার হিসেবে ডিজেল ইঞ্জিন সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়।

নিচের লেখাগুলো পড়ুনঃ

“পাওয়ার প্ল্যান্টে সংজ্ঞা, প্রকারভেদ ও কার্যপদ্ধতি সম্বন্ধে পড়ুন”

টারবাইন সম্বন্ধে সংক্ষিপ্ত ধারণা

” ব্যবহারিক কাজে জেনারেটর ও ইঞ্জিন সম্বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন – উত্তর পড়ূন “

References:

Power Plant Engineering – Bisbonath Majumdar

Wikipedia

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here